মার্চ:গৌরব ও আত্নত্যাগের মহান স্বাধীনতার মাস
শুরু হলো মহান স্বাধীনতার মাস। মনে করিয়ে দেয়, একটি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের সংকল্পের কথা। অধিকার হারানো বাঙালি লড়াই করে, আপন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। স্বাধীনতার ঘোষণা, দীর্ঘ বঞ্চনার সামনে খুলে দেয় সশস্ত্র সংগ্রামের পথ। একাত্তরের মার্চে, সর্বস্তরের জনগণ জীবন তুচ্ছ করে নামে যুদ্ধে। বহু নারীর সম্ভ্রম, লাখো প্রাণের বিনিময়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে, বীর বাঙালি ছিনিয়ে আনে লাল-সবুজের পতাকা।লাল সবুজের পতাকা কেবল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতীকই নয়। বরং এ যেনো নিজস্ব সত্ত্বা আবিষ্কারের নেশায় উন্মুখ, মুক্তিকামী জনতার রক্তে লেখা উত্তাল দিনলিপি। যে ইতিহাসের পথ পাড়ি দিয়ে, আজকের সোনার বাংলায়, মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে থাকা, প্রতিটি শিশু কথা বলে সম্ভাবনার। উর্বর মাঠে, মুক্ত বাতাসে দোল খাওয়া অবারিত ফসল যেনো, সেই স্বাধীনতার কথা বলে। যে স্বাধীনতা, যে মুক্তি এসেছে, এক মৃত্যু উপত্যাকা পাড়ি দিয়ে। ত্রিশ লাখ শহীদ, লাখো লাখো মা-বোনের কান্না আজও ধ্বনিত হয়, এ মাটির প্রতিটি অধিকারের সংগ্রামে। বঞ্চনার মুখে রুখে দাঁড়ানো অসীম সাহসী সন্তানেরা, চূড়ান্ত যুদ্ধে নামে একাত্তরের মার্চে। ৭০ এর নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ রায় ছিনিয়ে নিতে যখন, বিনা অজুহাতে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা হলো, বাংলার মানুষ তখন সইলো না।রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাঙালির মুক্তির অমোঘ আহ্বান।যার যা কিছু ছিল, তাই নিয়ে নেমে এলো মুক্তির সংগ্রামে । গোটা দেশ রূপ নিতে থাকলো, যুদ্ধের ময়দানে। প্রতিশোধের নেশায় উন্মাদ হয়ে, ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার আর তাদের দোসররা, কাপুরুষোচিত মরণ কামড় দেয়। অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকবাহিনী। ঘুমন্ত দেশ ওঠে, লাশের উপত্যকা। নিরস্ত্র বাঙালির সামনে আর,ফেরার পথ থাকেনা।কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের সেই স্বাধীনতা ঘোষণার উচ্চারণে, দিক খুঁজে পায় জনতা। বারুদ স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। সশস্ত্র জনযুদ্ধে নামে কোটি বাঙালি। আকাশের পাখির মতো, সমুদ্রের মাছের মতো, অসংখ্য অগণিত মানুষ, বুলেট আর বেয়নেটের মুখে বুক পেতে দাঁড়ায়। সুসজ্জিত কামানের চোখে চোখ রেখে মুক্তির নেশায়,মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নেয় সাহসী সন্তানেরা।
সবুজের বুকে এতোটা রক্তলাল আঁকা হয়নি পৃথিবীর আর কোন দেশের মানচিত্রে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরের প্রতিটি ভোরে, সব অর্জন,সব প্রতিবাদের নেপথ্যে, সেই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সশ্রদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে স্মরণ করে, নতজানু হয়ে এ মাটির সন্তানেরা যুগে যুগে বলে উঠবে- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159273