পাবনায় দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আটক ২

পাবনায় দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আটক ২

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ, দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে ধর্ষণ ও মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনা তদন্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এখনও হত্যার কারণ জানাতে পারছে না কেউ। দাদি-নাতনির হত্যা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতের পর কোনো এক সময় ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত দাদি সুফিয়া বেগম (৭০) ওই গ্রামের মৃত নজিমুদ্দিনের স্ত্রী। তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫) একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। সে কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিল। পুলিশ এঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল শুক্রবার রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন দাদী সুফিয়া বেগম ও তার নাতনী জামিলা। মধ্যরাতের পর হঠাৎ তাদের বাড়ি থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় প্রতিবেশীরা। কিন্তু ভয়ে কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পায়নি। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে যে যার বাড়িতে চলে যায়। সকালে বাড়ির প্রবেশমুখে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

আর নাতনি জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে সরিষাক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে।

জানতে পেরে এলাকাবাসীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের ভিড় জমে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো গ্রামবাসী। কেউ বুঝতে পারছে না কি কারণে, কারা এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে।

তবে পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, মধ্যরাতের পর কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে জামিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। দাদি বাধা দেয়ায় প্রথমে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার নাতনি জামিলাকে ধর্ষণের পর তাকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দুর্বৃত্তরা। শেষে বাড়ির পেছনে সরিষাক্ষেতে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

প্রতিবেশী নাসিমা খাতুন জানান, নিহত বৃদ্ধা সুফিয়ার সাথে গ্রামের কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তার নাতনি জামিলা কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ও হাফেজ ছিল। গ্রামের গৃহবধূদের নিয়ে তারাবি নামাজ পড়তো। যারাই এ ঘটনায় জড়িত তাদেরও ফাঁসি হওয়া দরকার।

নিহত সুফিয়া বেগমের বোন কুরসী খাতুন বলেন, সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি আমার বোনের লাশ গেটের সামনে পড়ে আছে। আর নাতনির লাশ টেনে হেঁচড়ে বাড়ির পেছেনে বেশখানিক দূরে সরিষাক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখেছে। মেয়েটার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। কারা যে এমন সর্বনাশ করলো তাদের বিচার চাই। মৃত্যুর বদলে মৃত্যু চাই।

জামিলার বড় বোন মিনু খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, খবর পেয়ে এসে দেখি আমার দাদির লাশ উঠানে পড়ে আছে। আর আমার বোনের লাশ মাঠের মধ্যে পড়ে আছে। আমার দাদি বা বোনের কোনো শত্রু ছিল না। তারা তো কারো অন্যায় করেনি। কারা এত শত্রুতা করলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

এদিকে খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় সিআইডির একটি টিম। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, নিঃসন্দেহে এটি জঘন্যতম ঘটনা। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্ত করছি। পুলিশের বিভিন্ন উইং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ করছে। কি কারণে হত্যাকান্ড, কারা জড়িত সেটি এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে খুব শিগগরি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।'

এদিকে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এখনো হত্যার রহস্য জানাতে পারেনি পুলিশ। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের আটক করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। তাদের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159230