কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নীল সেদাকা আর নেই
ষাট ও সত্তরের দশকের বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার নীল সেদাকা আর নেই।
গতকাল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ৮৬ বছর বয়সে এই কালজয়ী শিল্পীর জীবনাবসান হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা তাকে একজন রক অ্যান্ড রোল কিংবদন্তি এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, একজন অসাধারণ মানুষ হিসেবে তিনি তাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া এই জুয়িলিয়ার্ড-প্রশিক্ষিত শিল্পী তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। ‘ব্রেকিং আপ ইজ হার্ড টু ডু’, ‘লাফটার ইন দ্য রেইন’ এবং ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’-এর মতো গানগুলো তাকে বিশ্বজুড়ে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। বিশেষ করে হাইস্কুলের বান্ধবী ক্যারল কিংকে নিয়ে গাওয়া ‘ওহ! ক্যারল’ গানটি আজও সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। কিশোর বয়সের সারল্য মাখা সুর আর অনন্য কণ্ঠস্বরের জন্য তিনি রক অ্যান্ড রোল যুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
নীল সেদাকার সংগীত প্রতিভা কেবল নিজের গায়কীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিখ্যাত গান ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’-এর স্রষ্টাও ছিলেন তিনি, যা ১৯৭৫ সালে ক্যাপ্টেন অ্যান্ড টেনিলের কণ্ঠে চার্টবাস্টার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এলভিস প্রেসলি থেকে শুরু করে ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার মতো কিংবদন্তিরাও তার লেখা ও সুর করা গান গেয়েছেন। এ ছাড়া কনি ফ্রান্সিসের জনপ্রিয় গান ‘স্টুপিড কিউপিড’ এবং ‘হোয়্যার দ্য বয়েজ আর’-এর নেপথ্যেও ছিলেন তিনি।
এক ট্যাক্সিচালকের ঘরে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগীতের সঙ্গেই ছিলেন। আশি বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত কনসার্ট করতেন।
২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, কিংবদন্তি হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো একজন ‘সচল কিংবদন্তি’ হিসেবে কাজ করে যাওয়া। ব্রুকলিনের ব্রাইটন বিচের একটি ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু হওয়া তার এই যাত্রাপথে মা ইলিনর এবং স্ত্রী লেবা সব সময় ছায়ার মতো পাশে থেকে তার ক্যারিয়ার সামলেছেন।
সুরের জাদুকর নীল সেদাকার প্রস্থান বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159223