সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে বাধা দেওয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে বাধা দেওয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: মেয়েদের উত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রশিদপুর ও পার্শ্ববর্তী কাশিনাথপুর গ্রামের যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষে শাহ আলম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং উভয় পক্ষের আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে নিহত শাহ আলমের ছেলে সবুজ হোসেনের (২০) অবস্থা গুরুতর। আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শাহ আলম রশিদপুর গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে।

রশিদপুর গ্রামের নেতৃত্বে থাকা ইউনুস আলী, আক্তার হোসেন ও নূর ইসলাম অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী কাশিনাথপুর গ্রামের বাবলু ও ইউনুসসহ কয়েকজন যুবক বেশ কিছু দিন ধরে আড্ডা দেওয়ার জন্য রশিদপুর গ্রামে আসে। এ সময় তারা রশিদপুর গ্রামের রাস্তায় চলাচল করা মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করত।

এ নিয়ে কাশিনাথপুর গ্রামের অভিযুক্ত যুবকদের সাথে রশিদপুর গ্রামের যুবকদের ইতোপূর্বে কয়েক দফা ঝগড়া-বিবাদ হয়। এই গোলযোগের জেরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পার্শ্ববতীী কাশিনাথপুর গ্রামের যুবকেরা রশিদপুর গ্রামের যুবদের ওপর হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষ বাধে।

এ সময় উভয়পক্ষের শাহ আলম (৩৫), তার ছেলে সবুজ হোসেন (২০), আক্তার হোসেন (৬০), রাসেল হোসেন (১৮), রাব্বি (১৮), ফারুক হোসেন (৩৮), আব্দুল কাদের (৪৬), নূর ইসলাম (৪৫)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এদেরকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

নিহত শাহ আলমের বাবা চাঁদ আলী জানান, তার ছেলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে আজ শনিবার বেলা ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করার সময় রাস্তায় সে মারা যায়। তার নাতি সবুজ হোসেনকে বর্তমানে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তিনি তার ছেলের মৃত্যুর ব্যাপারে সলঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

এদিকে শনিবার সকালে শাহ আলমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। মূল অভিযুক্ত যুবক বাবলু ও ইউনুস বা তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইমাম জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই কোনো অভিযোগ করেননি বা কোন মামলা করেনি। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159215