বগুড়া সারিয়াকান্দির পতিত জমিতে কালোজিরার বাম্পার ফলন
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের পতিত জমিতে এ বছর কালোজিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে কালোজিরার দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে অল্প সময়ে কালোজিরা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।
বগুড়া সারিয়াকান্দির ওপর দিয়ে একসাথে যমুনা, বাঙালি এবং সুখদহ নদী বহমান হওয়ায় এ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় চরাঞ্চল রয়েছে। এসব চরাঞ্চল প্রতিবছরই প্রায় পতিত হয়ে থাকে। কিন্তু সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকেরা এসব পতিত জমিতে গত কয়েক বছর ধরেই কালোজিরা চাষ করছেন। গত বছর তারা প্রতি কেজি কালোজিরা ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে বেশ লাভবান হন।
এবছরও তারা বিপুল উৎসাহ নিয়ে কালোজিরার আবাদ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে বপণ করা কালোজিরার গাছ এখন বেশ বড় হয়েছে এবং গাছে গাছে ফুলে ভরে উঠেছে। কোথাও কালোজিরা ধরতে শুরু করেছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষকরা পরিপক্ব কালোজিরা জমি থেকে উত্তোলন করা শুরু করবেন। গত বছর তারা প্রতি বিঘা জমিতে আড়াই থেকে তিন মণ পর্যন্ত কালোজিরা পেয়েছিলেন, যা বাজারে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি করেন।
উপজেলার কাজলা এবং সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল পরিদর্শন করে দেখা গেছে-চরবাটিয়ার কৃষক আবু সাঈদ (৪৫) তার দুই বিঘা জমিতে, আবুল কালাম আজাদ (৫২) তার এক বিঘা জমিতে এবং শাহীন আলম (৪০) তার এক বিঘা জমিতে কালোজিরার আবাদ করেছেন। তাদের উপজেলার বেশকিছু কৃষক কালোজিরার আবাদ করেছেন।
কৃষক আবু সাঈদ বলেন, গত বছর আমি এক বিঘা জমিতে কালোজিরার আবাদ করে আড়াই মণ কালোজিরা পেয়েছিলাম। এবছর দুই বিঘা জমিতে কালোজিরার আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন খুবই ভালো হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই জমি থেকে কালোজিরা উত্তোলন করা শুরু করবো। গত বছর বাজারে প্রতি মণ কালোজিরা ২৪ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়েছে। আশা করছি এ বছরও ভালো দাম পাবো। এটি একটি অন্যতম লাভজনক ফসল।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উপজেলায় কালোজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হেক্টর। অর্জন হয়েছিল ১০ হেক্টর এবং প্রতি হেক্টর জমিতে এক মেট্রিকটন কালোজিরা উৎপাদন হয়েছিল।
এবছরও কালোজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এটি সাধারণত দু’একটি চাষ দিয়ে বপণ করার ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। তবে কিছু সার প্রয়োগ এবং দু’একটি সেচ দিলে ফলন ভালো হয়। এটি সাধারণত কার্তিক মাসের ১৫ দিন থেকে শুরু করে অগ্রহায়ণ মাসের ১৫ দিন পর্যন্ত জমিতে বপণ করতে হয়। এর পরিচর্যা খুবই কম।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, চরবেষ্টিত সারিয়াকান্দিতে কালোজিরার আবাদ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি চাষ করে অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এটি একটি ওষুধি গুণসম্পন্ন উচ্চমূল্যের ফসল। মধুর সাথে কালোজিরা খেলে বিভিন্ন ধরনের ঠান্ডাজনিত রোগের উপশম হয়। তাছাড়া কালোজিরাকে সকল রোগের মহৌষধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158901