ফ্যামিলি কার্ড কী, কীভাবে পাবেন; আবেদন করতে যা যা লাগবে

ফ্যামিলি কার্ড কী, কীভাবে পাবেন; আবেদন করতে যা যা লাগবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। দেশের বেকার , দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সংকট দূর করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে, যা প্রচলিত অন্যান্য সামাজিক ভাতার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ।

ফ্যামিলি কার্ড আসলে কী? 

ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি বিশেষ ডেটাবেস ভিত্তিক পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নিয়মিত সরকারি আর্থিক অনুদান পাবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এই কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর (Female Head of Household) হাতে তুলে দেওয়া হবে, যা নারীর ক্ষমতায়ন  নিশ্চিত করবে। সরকার আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশের বেশি যোগ্য পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ফ্যামিলি কার্ডের বিশেষ সুবিধাসমূহ 

নতুন সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ : বর্তমানে প্রচলিত বয়স্ক ভাতা (Old Age Allowance), বিধবা ভাতা বা অন্যান্য ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ হবে।

নারীর আর্থিক স্বাধীনতা: কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে। এতে নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

দ্রুত বাস্তবায়ন: দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে আগামী ঈদুল ফিতরের (Eid-ul-Fitr) আগেই পাইলট প্রকল্প আকারে কয়েকটি এলাকায় এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

মৌলিক চাহিদা পূরণ: বেকার বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো নিয়মিত ভাতার মাধ্যমে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারবে।

আবেদন করার নিয়ম ও ফ্যামিলি কার্ড পাবো কীভাবে?

অনেকেই প্রশ্ন করছেন ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবো (How to get Family Card) বা এর নিয়ম কী? আবেদন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process) স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার তিনটি ধাপে কাজ করছে:

১. উপকমিটির প্রতিবেদন: আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে উপকমিটি তাদের চূড়ান্ত রূপরেখা জমা দেবে, যেখানে ভাতার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও নীতিমালা উল্লেখ থাকবে।

২. পাইলট প্রজেক্ট ও তালিকাভুক্তি: ঈদের আগে পাইলট প্রজেক্ট শুরু হলে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হবে।

৩. এলাকাভিত্তিক সম্প্রসারণ: মাদারীপুরের শিবচরসহ নির্দিষ্ট এলাকায় সফলতার পর দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে এটি সম্প্রসারিত হবে। তখন মেম্বার বা কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।

৪. অনলাইন আবেদন : স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনআইডি (NID) ব্যবহার করে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ রাখা সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম।

ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন প্রক্রিয়া

ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় এই কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার একটি অনলাইন পোর্টাল (Online Portal) চালুর পরিকল্পনা করছে। যোগ্য পরিবারগুলোর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) ব্যবহার করে অনলাইনে ডেটাবেস তৈরি করা হবে। যখনই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপ উন্মুক্ত করা হবে, তখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবেদন করা সম্ভব হবে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ রাখাই সবচেয়ে উত্তম।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158421