প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জামাল
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জামাল হোসেনের গাঠাগার। স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো থেকে পাঠক আসেন তার পাঠাগারে।
জানা যায়, স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় জামাল হোসেন বাবা মায়ের দেওয়া টিফিনের ৭৫০ টাকা জমিয়ে মাত্র ১০টি বই কিনে তার নিজ গ্রাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপার বাজার নামক গ্রামে ২০১৪ সালে পাঠাগারটি তৈরি করেন।
যার নাম দেন ‘সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগার’। এখন তার গাঠাগারে রয়েছে ১৫ হাজার বই। পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি মানুষকে বই পড়তেও উৎসাহিত করে চলেছেন। যা এখন পরিণত হয়েছে জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে।
চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় জামাল হোসেন। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে এখন মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন তিনি। তার বাবা আব্দুল ছাত্তার একজন অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য, মা সাহেরবানু বেগম গৃহিণী।
জামালের ইচ্ছা নিজ গ্রামের মানুষদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া। সে স্বপ্ন থেকেই প্রত্যন্ত গ্রামে পাঠাগার গড়ে তোলেন। এরপর দিনে দিনে বাড়তে থাকে জামালের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও পাঠাগারের কলেবর।
ছেলের কাজে খুশি হয়ে এগিয়ে আসেন বাবা আব্দুল ছাত্তার। তিনি পাঠাগারের নামে লিখে দেন নিজের ৫ শতাংশ জমি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জামালকে। সহকারী অধ্যাপক সুনীল কুমার সুত্রধর জানান, পাঠাগার তৈরি করে থেমে নেই জামাল হোসেন। সে মানুষকে বই পড়তে উৎসাহী করতে নেন নানা উদ্যোগ। এলাকার যুবকদের নিয়ে তৈরি করেন সংগঠন।
এরপর পাঠাগারের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গড়ে তোলেন সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র। সাহিত্য, ইতিহাস, গবেষণা, জীবনী, ভ্রমণ, বিজ্ঞান, ধর্ম, সংস্কৃতিসহ প্রায় সব বিষয়ের বই রয়েছে তার পাঠাগারে। বই পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত গান, কবিতা আবৃত্তি শেখানো হয় পাঠাগারে।
জামাল হোসেন জানান, সামাজিক নানা কাজের জন্য বিভিন্ন সংগঠন থেকে ১৭টি পুরস্কারসহ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। পাঁচটি শ্রেণিতে ১২ জন তরুণকে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এছাড়াও প্রবীণদের প্রতি সেবা ও সমাজকল্যাণে অবদানের জন্য ওই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158396