গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বোরো ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। বাতাসে দোল খাচ্ছে বোরো ধানের কচি চারা। উপজেলার কঞ্চিপাড়া, উদাখালী, উড়িয়া ও গজারিয়া ইউনিয়নে এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ব্যাপক পরিসরে। মাসখানেক আগেই চারা রোপণ শেষ হয়েছে। এখন ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, আগাছা দমন ও সার প্রয়োগ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ চারা। কোথাও কৃষক সেচ দিচ্ছেন, কোথাও আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ জমিতে সার ছিটাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা। গ্রামীণ জনপদে এখন যেন বোরো মৌসুমের কর্মচাঞ্চল্য।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং শীতের তীব্রতা কম থাকায় চারাও ভালো ছিল। পূর্ব ছালুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, এবার সময়মতো জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করতে পেরেছি। বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা ভালো।
যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি। তবে সার ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে জানান তিনি। সিংড়িয়া গ্রামের কৃষক আজাদুল ইসলাম বলেন, জমিতে এখনও তেমন রোগবালাই দেখা যায়নি। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় সার দিচ্ছি। জমিতে পানি ধরে রাখার দিকেও নজর দিচ্ছি। তিনি বলেন, কৃষকরা এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত সারের দাম, সেচ খরচ ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিন্টু মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ সন্তোষজনক। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে জমি পরিদর্শন করছেন।
সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ, আগাছা দমন ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় আমরা সচেতনতা বাড়াচ্ছি। এছাড়া কোনো জমিতে রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158393