বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গৃহবধূর লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ
মফস্বল ডেস্ক : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দ্বিতীয় বাইপাস বেতগাড়ি এলাকায় বাসের ধাক্কায় ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যু ও একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের লাশ নিয়ে ঢাকা বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের মামা রেজাউল করিম জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে দ্বিতীয় বাইপাস বেতগাড়ি এলাকায় একটি বাস পেছন থেকে ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে ইজিবাইক চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন ছিলেন। গুরুতর আহত গৃহবধূ চামেলি খাতুন (স্বামী: জুয়েল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটায় মারা যান।
নিহত চামেলির ২ বছরের শিশু সন্তান দুর্ঘটনায় আহত সোয়াদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসকরা তার ডান পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করেছেন।
আহত অপর শিশু কন্যা নেহা ও চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া ইজিবাইক চালক সেলিম (পিতা: সেকেন্দার) আহত হন।
চামেলি খাতুনের মৃত্যুর পর ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বেতগাড়ি লিচুতলা বাইপাস মোড়ে নিহতের লাশ নিয়ে ঢাকা বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ সড়কে অবস্থান নেন।
অবরোধ চলাকালে এলাকাবাসী বেতগাড়ি বাইপাস মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্জ মোশাররফ হোসেন। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে যা যা প্রয়োজন তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ সময় তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোর্শেদ মিল্টনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান।
নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন শিশু সন্তান সোয়াদের চিকিৎসা সহায়তায় ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করার আশ্বাস দেন।
পরে তার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে বিক্ষুব্ধ জনতা নিহতের লাশ সরিয়ে নিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
তবে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পুনরায় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেতগাড়ি বাইপাস মোড় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158346