কারাগারে হিরো আলম 

কারাগারে হিরো আলম 

কোর্ট রিপোর্টার : বিউটি পার্লালের মালিক এক যবুতীকে নায়িকা বানানোর কথা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণসহ মারপিট করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলমকে (৪০) হাজতি পরোয়ানামূলে বগুড়া কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যতন টাইব্যুনাল নং-১ এ সোপার্দ করা হলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। তবে ওই আসামির বিরুদ্ধে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন জামিনের আবেদন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, জনৈক সাদিয়া রহমান মিথিলা (২৭ )নামের যুবতী বাদি হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যতন টাইব্যুনাল নং-১ এর আদালতে গত ৪ মে এই মামলা দায়ের করেন। ওই ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের জন্য পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপারের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। 

ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগে বলা হয়, বগুড়ার এরুলিয় বানদিঘী পশ্চিমপাড়ার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে আসামি আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলম বাদিকে ছোট পর্দার নায়িকা বানোর লোভ দেখায়। এরপরে হিরো আলম বাদিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। জনৈক মৌলভী ডেকে এনে বাদির সাথে হিরো আলম কবুল পড়ে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করতে থাকে।

এরই মধ্যে শট ফ্লিম তৈরির জন্য তার কাছ থেকে হিরো আলম ১৫ লাখ টাকা কর্জ নেয়। পরে বাদি হিরো আলমকে বিয়ের কাবিনের জন্য চাপ দিলে সে বাদিকে গত ১৮ এপ্রিল বগুড়ার বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তাকে সন্তান নষ্টের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বাদি তার সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হলে আসামি আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলম গত ২১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে তাকে মারপিট করলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর ওই দিন তাকে বগুড়া শহরে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হলে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ এপ্রিল ভর্তি করা হলে সেখানে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণ করে মর্মে অভিযোগে বলা হয়। 

পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক কবিরুল ইসলাম অভিযোগটি তদন্ত করে গত ২০ জানুয়ারি সইকৃত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক ওই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দেন।

 

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158284