রোজার নিয়ত— বিধান ও সময়
রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিন্তু কেবল সেহরি খাওয়া বা না খাওয়াই রোজার মূল বিষয় নয়— রোজার ভিত্তি হলো নিয়ত। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত শুদ্ধ হয় না। তাই রোজার শুদ্ধতার জন্য নিয়তের বিধান, সময় ও পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। নিচে রোজার নিয়ত সম্পর্কিত বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।
নিয়ত কী? মুখে বলা কি জরুরি?
রোজার নিয়ত করা ফরজ। ‘নিয়ত’ বলা হয় মূলত অন্তরের ইচ্ছাকে। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়; বরং অন্তরে দৃঢ় সংকল্প থাকাই যথেষ্ট। কেউ যদি অন্তরে ইচ্ছা করে—‘আগামীকাল আমি রোজা রাখব’— তাহলেই নিয়ত হয়ে যাবে।
তবে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। যারা আরবি জানেন না, তারা বাংলাতেও বলতে পারেন—
‘আমি আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।’
কয়েকটি আরবি নিয়ত তুলে ধরা হলো—
نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ هٰذِهِ السَّنَةِ فَرْضًا لِلّٰهِ تَعَالَى
উচ্চারণ: ‘নাওয়াতু আন আছুমা গাদান মিন শাহরি রামাদানা হাজিহিসনাতি ফারদান লিল্লাহি তাআলা।’
অর্থ: ‘আমি এ বছরের রমজান মাসের আগামী দিনের ফরজ রোজা আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে রাখার নিয়ত করলাম।’
نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا لِلَّهِ تَعَالَى مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ هَذِهِ السَّنَةِ فَرْضًا
উচ্চারণ: ‘নাওয়াতু আন আছুমা গাদান লিল্লাহি তাআলা মিন শাহরি রামাদানা হাজিহিসনাতি ফারদান।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য এ বছরের রমজান মাসের আগামীকালের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম।’
আরেকটি সংক্ষিপ্ত রূপ—
نَوَيْتُ صَوْمَ غَدٍ عَنْ أَدَاءِ فَرْضِ رَمَضَانَ لِلّٰهِ تَعَالَى
উচ্চারণ: ‘নাওয়াতু আন ছাওমা গাদিন আন আদায়ি ফারদি রমদানা লিল্লাহি তাআলা।’
অর্থ: ‘আমি আগামী দিনের রমজানের ফরজ রোজা আদায়ের নিয়ত করলাম, আল্লাহ তাআলার জন্য।’
আরও সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়—
نَوَيْتُ صَوْمَ غَدٍ لِلَّهِ تَعَالَى فَرْضًا
উচ্চারণ: ‘নাওয়াতু ছাওমা গাদিন লিল্লাহি তাআলা ফারদান।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহ তাআলার জন্য আগামীকালের ফরজ রোজার নিয়ত করলাম।’
ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়তের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে এসেছে—
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ
‘নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বুখারি ১, মুসলিম ১৯০৭)
রমজানের ফরজ রোজার নিয়তের সময়
রমজানের ফরজ রোজার নিয়ত রাতে করা উত্তম। উম্মুল মুমিনিন হজরত হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত—
مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَا صِيَامَ لَهُ
‘যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না, তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।’ (আবু দাউদ ২৪৫৪, ১/৩৩৩)
নিয়তের সময় শুরু হয় রোজার আগের দিনের সূর্যাস্তের পর থেকে। যেমন— মঙ্গলবারের রোজার নিয়ত সোমবার সূর্যাস্তের পর থেকে করা যাবে। তবে সোমবার সূর্যাস্তের আগে মঙ্গলবারের রোজার নিয়ত করা যথেষ্ট নয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158230