পঞ্চগড়ে পুরোদমে চলছে বোরো চারা রোপণের মহোৎসব

পঞ্চগড়ে পুরোদমে চলছে বোরো চারা রোপণের মহোৎসব

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : বাজারে ধানের দাম বেশ ভাল থাকায় এবার ইরি-বোরো ধান আবাদে ঝুঁকেছে পঞ্চগড়ের কৃষকরা। এখন জেলাজুড়ে চলছে বোরো ধানের কচি চারা রোপণের ধুম। আর যারা কিছুটা আগেভাগে জমিতে চারা রোপন করেছেন, তারা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জমির আগাছা পরিস্কার, কীটনাশক স্প্রে আর সার প্রয়োগের কাজে। কৃষকদের আশা এবার এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল থাকায় আগের বছরের তুলনায় এবারও ভাল ধান ঘরে তুলতে পারবেন তারা।

জানা গেছে, পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোর জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি আবাদ করা গেলেও পঞ্চগড়ে প্রধান আবাদ দুই মৌসুমের ধান। বর্ষাকালে প্রকৃতি নির্ভর আমন আর রবি মৌসূমে সেচ নির্ভর বোরো ধান। ছোট বড় সব কৃষকই এই দুই মৌসুমে ধান আবাদ করে থাকে।

আর ধান আবাদ করে নিজের সারাবছরের খাবার যোগানোর পাশাপাশি ধান বিক্রির টাকা দিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের অন্যান্য খরচ করতে হয়। পঞ্চগড় জেলার মাটি অনেকটা বেলে-দোআঁশ হওয়ায় অন্যান্য জেলার চেয়ে এখানে বোরো ধান কম আবাদ হয়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারো জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে বোরো ধানের আবাদ।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি ইরি-বোরো মৌসূমে পঞ্চগড় জেলার পাঁচ উপজেলায় হাইব্রিড ও উফশী মিলে ৩৩ হাজার ৯৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে নয় হাজার ২১ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ২৪ হাজার ৯৭৩ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ধান আবাদ করা হবে। কৃষি বিভাগের হিসেবে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে চারা রোপনের কাজ শেষ হয়েছে। আর দুই সপ্তাহের মধ্যে চারা রোপনের কাজ শেষ হবে।

এবার বোদা উপজেলায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর এবং দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হচ্ছে। এছাড়া অন্য উপজেলার মধ্যে তেঁতুলিয়ায় চার হাজার ৯২৫, সদরে তিন হাজার ৩৯৫ এবং আটোয়ারীতে চার হাজার ৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হবে। জেলার বোদা উপজেলা বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এখন ধানের দামে বেশি।

খরচ একটু বেশি হলেও এবারও পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত অবস্থা বেশ ভাল। কোন ধরণের দুর্যোগ না হলে এবার ফলন বেশ ভাল হতে পারে। সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের গলেহাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু বলেন, গত মৌসূমে ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলাম। ধান বিক্রি করে শেষ পর্যন্ত খরচের টাকাও ওঠেনি। তাই এবার বোরো ধান কমিয়ে ওই জমিতে ভূট্টা আর বাদাম করছি। নিজের খাওয়ার জন্য মাত্র দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করেছি।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত মৌসমে পঞ্চগড়ে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। পোকামাকড়ের আক্রমণ কিছুটা বেশি থাকার পরও কৃষকরা অধিক ফলন ঘরে তুলতে পেরেছিল। এবারও এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে এবারও আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158218