রোজার প্রধান পণ্য খেজুরের দাম পাইকারির সাথে খুচরা বাজারের মিল নেই

রোজার প্রধান পণ্য খেজুরের দাম পাইকারির সাথে খুচরা বাজারের মিল নেই

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদিন রোজার পর  শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগাতে খেজুরের মত উপযোগী খাদ্য আর দ্বিতীয়টি নেই। খেজুর না থাকলে যেন ইফতার পরিপূর্ণ হতে চায়না। আর তাই রমজান মাসে এর কদরও বেশি। চাহিদা বাড়ায় পণ্যটির দাম পাইকারি ও খুচরা বাজারে এবছর খেজুরের দাম বেড়েছে কেজিতে  ৫০ থেকে ২শ’ টাকা। যদিও রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখতে গত ডিসেম্বর মাসে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে সরকার। গোটা মাস জুরে ভোক্তা অধিকার মনিটরিং করবে বাজার।

সংশ্লিস্টরা জানান, পবিত্র রমজান মাসেই খেজুরের মূল চাহিদা থাকে। দেশে  খেজুরের চাহিদা তাকে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টনের মত। এর বেশিরভাগ খেজুর আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে খেজুরের সবচেয়ে বড় বাজার বগুড়ায়।

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা এখানকার মোকাম থেকে খেজুর নিয়ে যান। বাজারে বিভিন্ন মান ও দামের খেজুর থাকলেও ইরাক থেকে আসা জাহিদী খেজুর (স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ইরাকী বস্তা খেজুর হিসাবে পরিচিত) ও দুবাই থেকে প্যাকেট খেজুরের (১০ কেজির কার্টন) চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দাবাস, লুলু. রিজিস ও নাগাল। এছাড়া ৫ থেকে ৯কেজি’র প্যাকেটে আসা বিভিন্ন খেজুর রয়েছে। এগুলো হলো মদিনা খেজুর, মরিয়ম খেজুর, তিউনিশিয়া খেজুরসহ বিভিন্ন নামের খেজুর। ব্যবসায়ীরা জানান, এসব খেজুরের (প্রতি কার্টনে ১০ কেজি) দাম ও মান মাঝারী হওয়ায় এ খেজুরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এরপরে চাহিদা রয়েছে ইরাকী বস্তা খেজুরের।

গত বছর বস্তা খেজুর ১৪০ থেকে থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে মোকাম থেকে বিক্রি হলেও এবছর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। খুচরা ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ২৬০ টাকা প্রতি কেজি। দামি খেজুর হিসেবে পরিচিত আজওয়া, মেডজুল, মরিয়ম, আম্বর সাফাভি, খেজুরের দাম জিগ্যেস করে চলে যাচ্ছেন ক্রেতারা।

এবছর পাইকারি মোকাম থেকে  জাহিদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা কেজি, বরই  ৩৫০ টাকা, দাবাস ৪৬০,কালমি  ৫৪০টাকা, খালাশ ২৭০ টাকা,  সুককারি ৬০০ টাকা, মাবরুম ১০৫০ টাকা, মেডজুল ১৬২৫ টাকা,  আজওয়া ৮০০, মাসরু ৪৮০, সাদা খুরমা ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে সবচেয়ে দাম বেড়েছে  ইরাকি  বস্তা খেজুরের  দাম ২০০ টাকা কেজি।

এদিকে বগুড়ার  খুচরা বাজারে প্রতিকেজি  মাবরুম  বিক্রি হচ্ছে ১হাজার থেকে ১৫ শ’ টাকায়, দাবাস  বিক্রি হচ্ছে  ৫০০ থেকে ৫৬০, নাগাল ৭শ’, জাহিদি ২৬০, মরিয়ম  বিক্রি হচ্ছে ১৩শ’, মেডজুল ১৩শ’ থেকে ১৪শ’, সাফাভি/কালমী  ৮শ’ থেকে ৯শ’, আজওয়া  ১ থেকে ১২শ’, সাদা খুরমা  ৪শ’, মাশরুখ   ৬শ টাকা, লুলু ৪৬০, শুককারি ৭৫০টাকা,  খালাশ ৪০০টাকা,  মাসরু ৬০০, বরই ৫৪০, বস্তা খেজুর  বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজি। 
বগুড়া শহরের  কাঠালতলা এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী  বিবেক জানান, ‘সাধারণত আমাদের এখানে কম দামি ও মধ্যম মানের খেজুর বেশি পরিমাণে আমদানি ও বিক্রি হয়।

ইফতারের সবচেয়ে প্রধান অনুসঙ্গ খেজুরের বিক্রি বেড়েছে বেশ কয়েকদিন হলো। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে তা আরও বেড়েছে।  গতবছরের চেয়ে দুই একটা খেজুরের দাম কিছুটা বেড়েছে।  এব্যাপারে আমাদের করার কিছুই নেই  আমরা যেমন দামে মোকাম থেকে কিনছি তেমনি দামে খুচরা দোকানে বিক্রি করছি।’

দাম বাড়ার ব্যাপারে বগুড়ার নাহিদ ফল ভান্ডারের  স্বত্তাধিকারী মো: মাহফুজ শরিফ মিঠু জানান, ‘পাইকারি পর্যায়ে খেজুরের দাম বাড়েনি। শুধুমাত্র ইরাকি বস্তা খেজুরের দাম কিছুটা বেড়েছে। দুই এক দিনের  মধ্যে তাও কমে আসবে। তবে বেশিরভাগ খেজুরের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। খেজুরের সরবরাহেও কোনো সংকট নেই। খুচরা বাজারে কেন দাম বেড়েছে বলতে পারব না।

এদিকে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোক্তা অধিকার  অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন যৌথভাবে বগুড়া স্টেশন রোডে খেজুরের পাইকারি ও খুচরা দোকানে  অভিযান পরিচালনা করে একটি প্রতিষ্ঠানে মেয়াদত্তীর্ন ৩০০কেজি খেজর নষ্ট করা হয়েছে এবং তাদের ১০ হাজার টাকা  জরিমানা  করা হয়েছে।

একইসাথে আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এব্যাপারে ভোক্তা বগুড়া ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, গোটা রমজান জুড়ে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158216