জিয়াউল আহসান ‘সিরিয়াল কিলার’: সাবেক প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া  

জিয়াউল আহসান ‘সিরিয়াল কিলার’: সাবেক প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া  

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে ‘সিরিয়াল কিলার’ অভিহিত করেছেন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জেরার জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান এই দাবি করেন। তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। সঙ্গে ছিলেন জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহারসহ আরও কয়েকজন।

শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার আসামি বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে এদিন অপর বিচারক ছিলেন মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জেরার এক পর্যায়ে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর প্রশ্নে জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, “জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। এ কারণে আমি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। তবে পদোন্নতি বোর্ডের অধিকাংশই তাকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দিয়ে পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করেছেন।”

জেরার সময় সাবেক সেনাপ্রধানকে আইনজীবী টিটো প্রশ্ন করেন, তার সেনাপ্রধান থাকাকালে ২০১২-১৫ সালের মধ্যে জিয়াউল আহসান কয়টি পদোন্নতি পেয়েছেন।

এর উত্তরে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, একটি পদোন্নতি পেয়েছেন– লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে।

এ সময় তার পদোন্নতির ব্যাপারে পদোন্নতি বোর্ডের কতজন কর্মকর্তা সুপারিশ করেছেন জানতে চান আসামির আইনজীবী টিটো।

জবাবে ইকবাল করিম বলেন, “অধিকাংশই মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে মতামত দিয়েছেন।”

জিয়াউল আহসানের পদোন্নতি ঠেকাতে চাওয়ার কথা তুলে ধরে ইকবাল করিম বলেন, “আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে নই। তুমি পদোন্নতি সভায় এভাবেই উপস্থাপন করবে।

“পরে সভায় এভাবেই উপস্থাপন করেছেন মোমেন। তথাপি জিয়াউলকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন অধিকাংশ সদস্য।”

জিয়াউল আহসান ‘কখনওই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না’ দাবি করে ইকবাল করিম বলেন, “সেনাবাহিনীতে সচরাচর স্টাফ কলেজ করা ছাড়া কাউকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। তিনি স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনও অর্জন করেননি। এমনকি স্টাফ কলেজও করেননি। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি কোনও ব্যাটালিয়ন কমান্ড করেননি। এজন্য তিনি কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না।”

পদোন্নতি সভায় জিয়াউল সম্পর্কে এ কথা উপস্থাপন করায় জেনারেল মোমেনকে কিছুদিন পর সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয় বলে জানান জেনারেল করিম।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

গেল ৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম-খুনের দায়ে তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের প্রথমটি হল- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা।

দ্বিতীয় অভিযোগের ঘটনাস্থল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খাল ঘেঁষা বলেশ্বর নদের মোহনা। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে নজরুল ইসলাম মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে বরগুনার বলেশ্বর নদ ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে কথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

গত ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিনই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158201