অস্ট্রেলিয়াকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে !

অস্ট্রেলিয়াকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে !

স্পোর্টস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়া বিশ্বকাপ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে এটাই বাস্তবতা। ‘বি’ গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিতীয় দল হিসেবে জিম্বাবুয়ে পরের ধাপে ওঠায় বাদ পড়েছে অজিরা। তাদের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট ইয়ান হিলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া প্রতারিত হয়েছে।’ জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে খাদের কিনারায় ছিল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল (মঙ্গলবার) জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে দুই দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়, ছিটকে যায় ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

এসইএন ক্রিকেট-কে হিলি হারের কারণগুলো বের করার চেষ্টা করেছেন, ‘আচ্ছা, দেখা যাক আমরা এটিকে ব্যবচ্ছেদ করতে পারি কি না। অস্ট্রেলিয়ানরা বিশ্বকাপের প্রথম পর্বেই বাদ পড়ে গেল। এমনটা ঘটার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে, ঠিক যেমনটা অ্যাশেজের আগে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সঙ্গে হয়েছিল। যখনই সমালোচনা করা হয়েছে, তখনই একটা জেদ দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের মতো সূক্ষ্ম ও কৌশলপূর্ণ  কন্ডিশনে খেলার জন্য যখন আমরা একটি ‘পাওয়ার টিম’ নির্বাচন করেছি, তখন আমরা যে ভুল হতে পারি— সেই সত্যটি অস্বীকার করার একটি প্রবণতা ছিল। এবং আমাদের মধ্যে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমরাই সঠিক।’স্কোয়াড নিয়ে তার কথা, ‘বাস্তববাদী হও, অস্ট্রেলিয়া। আমাদের অধিনায়ক ডিসেম্বরে তার শিল্ড ক্রিকেট শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যাতে তিনি এই টুর্নামেন্টে নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করতে পারেন। প্রতিটি সুযোগে যে স্কোয়াডটি তৈরি হচ্ছিল, তা নিয়ে সে উত্তেজিত ছিল। তারা সারা বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক সফরে ছিল। অথচ আমাদের সম্ভবত শেষ ম্যাচে আমাদের দুইজন বোলার ও সেরা ব্যাটারকে বাদ দেওয়া হলো একজন অলরাউন্ডার, একজন বোলার ও স্বয়ং অধিনায়কের প্রত্যাবর্তনের জন্য। এটি করা হয়েছিল আমাদের ব্যাটিং লাইনআপকে দীর্ঘ করার জন্য।’

অস্ট্রেলিয়ার দল বাছাই নিয়েও হতাশ হিলি, ‘কুপার কনলি, সত্যি? সে ব্যাটিংয়ে কতটা গভীরতা বাড়াতে পারতো? ছয় ম্যাচ ধরে সে দুই অঙ্কের ঘরে রান করেনি। এর কোনো মানে হয় না। দল সব ফিনিশার দিয়ে ভরা, ভালো শুরু করার মতো ব্যাটার নেই। শ্রীলঙ্কায় তারা ভালো শুরু করতে পারেনি। আমরা বলছিলাম ক্যামেরন গ্রিন তিন নম্বরে, টিম ডেভিড চার ও জশ ইংলিষ পাঁচে, যাকে কি না ওপেনার ও সাতেও খেলানো হয়েছে।’তিনি আরও বললেন, ‘ওকে ওলটপালট করে খেলানো হচ্ছিল এবং তার ভালো ফর্ম নষ্ট করছিল। এটা স্রেফ ভারসাম্যহীন দল। দল নির্বাচনে ভুল পথপ্রদর্শন এক বছর আগেই হয়েছিল যেখানে তারা ব্যাটিং দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও লড়াই করার মানসিকতার চেয়ে পাওয়ারকে গুরুত্ব দিয়েছিল বেশি এবং তারপর খেলোয়াড়দের ফর্ম ও ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সেটা ভুলে গিয়েছিল।’

অস্ট্রেলিয়া দলের শীর্ষস্থানীয় পেস বোলার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউড ইনজুরিতে নেই বিশ্বকাপে। মিচেল স্টার্কও অবসরে। তাই বোলিংয়ে ছিল না সেই পুরোনো ধার। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ট্রেনিংয়ে চোট পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচ খেলেননি। 

এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হারের সঙ্গে ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড, জশ ইংলিশ, জাভিয়ের বার্টলেট ও বেন ডারশুইসের ফর্মও পড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার অকাল বিদায়ে এই কারণগুলো চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া ফর্মে থাকা স্টিভ স্মিথকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচামরার ম্যাচের জন্য ডেকেও একাদশে না রাখায় সমালোচিত হচ্ছে অজিদের ম্যানেজমেন্ট।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158144