৫০০ টাকা চাঁদা দাবি, বগুড়া পৌরসভার ঝাড়ুদার খুন

৫০০ টাকা চাঁদা দাবি, বগুড়া পৌরসভার ঝাড়ুদার খুন

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আহত পৌরসভার ঝাড়ুদার সুনীল বাঁশফোড় (২৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে সংসদ নির্বাচনে সেউজগাড়ী ময়েজউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে স্টেশন সড়কে বায়তুর রহমান মসজিদের সামনে তিনি সন্ত্রাসীদের কবলে পড়েন।

এ সময় অনিকসহ সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ও চাকু-ছোরাসহ তার পথরোধ তার কাছ থেকে ৫শ’ টাকা চাঁদা দাবি করে। তখন সুনীল চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীদের মধ্যে অনিক সুনীলের উরুতে উপর্যুপরীভাবে ছুরিকাঘাত করে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে সুনীল মারা যান। নিহত সুনীল বাঁশফোড় শহরের সেউজগাড়ি সুইপার কলোনির সন্তোষ বাঁশফোড়ের ছেলে।

নিহতের বাবা সন্তোষ বাঁশফোড় জানান, অনিক নামে এক মাদককারবারি সুনীল বাঁশফোড়ের কাছে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায় অনিক তার কাছে থাকা চাকু বের করে সুনীলের উরুতে আঘাত করে। এতে তার প্রচন্ড রক্ত ক্ষরণ হয়। এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ৯টার দিকে তার ছেলে মারা যায়। তিনি আরো জানান, ছেলে হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে অনিক (২৪)কে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ৫-৬ জনকে।

বগুড়া সদর থানার ওসি মো: মুনিরুল ইসলাম বলেন, সুনীল বাঁশফোড়কে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় তার বাবা সন্তোষ বাঁশফোড় বাদি হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, পরে মামলাটি হত্যা মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই মাদক কারবারি অনিক পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/158069