কড়া নাড়ছে রমজান

কড়া নাড়ছে রমজান

মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো” (সুরা বাকারা: ১৮৩)। এই মাসেই মানবজাতির পথনির্দেশক মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল করা হয়েছে (সুরা বাকারা: ১৮৫)। রমজানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (সুরা আল-কদর: ১–৩)।

রমজান তাকওয়া অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমল বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতে “রাইয়ান” নামে একটি বিশেষ দরজা আছে, যা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবে (বুখারি: ১৮৯৬)। এছাড়া ইমান ও সওয়াবের আশায় তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ আদায় করলে পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয় (বুখারি: ৩৭)।

রমজানে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, দোয়া, দান-সদকা এবং অসহায়দের সাহায্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মিথ্যা, গিবত, সুদ, ঘুষ, প্রতারণা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। সাহরি ও সময়মতো ইফতার করা সুন্নত; খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম (বুখারি: ১৯৫৭, মুসলিম: ১০৯৬)।

দুঃখজনকভাবে, এ মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের কষ্ট বাড়ায়, যা বড় গুনাহ। রমজান হলো সংযম, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের মাস। তাই অপচয় পরিহার, গরিব-দুঃখীদের সহায়তা এবং অধীনস্থদের সঙ্গে সদাচরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের সঠিক মর্যাদা উপলব্ধি করে বেশি বেশি ইবাদত ও নেক আমল করার তাওফিক দান করুন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157990