নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা
স্পোর্টস ডেস্ক : স্পিনারকে রিভার্স সুইপ করলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বাঁ দিকে লাফিয়ে শরীরটা শূন্য ভাসিয়ে দুই হাতে বল মুঠোয় জমালেন পাথুম নিসাঙ্কা। ধারাভাষ্যকার বললেন, ‘হোয়াট আ ক্যাচ’… ‘আউটস্ট্যান্ডিং…।’ নিসাঙ্কার ওই ক্যাচই ঘুরিয়ে দিল ম্যাচের মোড়। পরে ব্যাট হাতে তিনি উপহার দিলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। রেকর্ডগড়া জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠল শ্রীলঙ্কা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয় ৮ উইকেটে। পাল্লেকেলেতে সোমবার ১৮২ রানের লক্ষ্য ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা।
জয়ে আসর শুরুর পর টানা দুই হারে ঝুলে রইল অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য। এমনকি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা ওমানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে তাদের, যদি মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে জিততে পারে কিংবা ম্যাচটি ভেস্তে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে ভাগ করা যায় তিন ভাগে। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রথম আট ওভারে বিনা উইকেটে ৯৭ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল তারা। সেখান থেকে ২২০ বা ২৪০ রানে নজর থাকার কথা। কিন্তু দ্রুত হারিয়ে ফেলে চারটি উইকেট।
তারপরও ১৬ ওভারে তাদের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৬০। তখন জমে উঠেছিল ম্যাক্সওয়েল ও জশ ইংলিসের জুটি। এরপরই নিসাঙ্কার ওই ক্যাচে ম্যাক্সওয়েলের বিদায়ে ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে।
শেষ চার ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তুলতে পারে কেবল ২১ রান!
রান তাড়ায় শুরুতে কুসাল পেরেরাকে হারালেও, কুসাল মেন্ডিসের ফিফটি ও নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত অনায়াসে জিতে যায় শ্রীলঙ্কা।
১০ চার ও পাঁচ ছক্কায় ৫২ বলে ১০০ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন নিসাঙ্কা। চলতি আসরে প্রথম সেঞ্চুরি এটি, বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয়। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই।
শ্রীলঙ্কার এই জয় আঁচর কেটেছে রেকর্ড বইয়ের বেশ কিছু পাতায়। এটি বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার নজির, বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ রান তাড়ার কীর্তি। টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার মাটিতে যেকোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ রান তাড়ার নজিরও এটি।
শেষটা স্মরণীয় হলেও ম্যাচের শুরুটা দুঃস্বপ্নের মতো ছিল শ্রীলঙ্কার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দুই ওভারে অস্ট্রেলিয়া তোলে ২৫ রান। পরের ওভারে চার বল করার পর পায়ে টান লাগায় মাঠ ছেড়ে যান গতিময় পেসার মাথিশা পাথিরানা। আর মাঠে ফেরেননি তিনি।
ষষ্ঠ ওভারে মার্শের পাঁচটি চারে পাওয়ার প্লেতে অস্ট্রেলিয়া করে ৭০ রান।
হেড ফিফটি করেন ২৭ বলে। নবম ওভারে দুশান হেমান্থাকে ছক্কার পরের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। থামে ৫১ বলে ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। সাত চার ও তিন ছক্কায় হেড করেন ২৯ বলে ৫৬ রান।
পরের ওভারে ক্যামেরন গ্রিন স্টাম্পড হয়ে ফেরেন ৩ রান করে। হেমান্থার পরের ওভারে ফিফটি ছুঁয়ে, ওই ওভারেই বিদায় নেন মার্শ (২৭ বলে ৫৪)। টিকতে পারেননি টিম ডেভিড।
২৬ বলের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
সেখান থেকে দলকে টানেন ম্যাক্সওয়েল ও ইংলিস। কামিন্দু মেন্ডিসকে পরপর ছক্কা ও চার মারেন ম্যাক্সওয়েল। ১৬ রানে ম্যাক্সওয়েলের ক্যাচ ফেলেন নিসাঙ্কা। পরের ওভারেই অসাধারণ ক্যাচে এই আগ্রাসী ব্যাটসম্যানকে (১৫ বলে ২২) ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
পরের ওভারে বিদায় নেন ইংলিসও (২২ বলে ২৭)। বাকিরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। অস্ট্রেলিয়া থমকে যায় তাই ১৮১ রানেই।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারে ছক্কায় ডানা মেলে দেন নিসাঙ্কা। কুসাল পেরেরা বিদায় নেন পরের ওভারে।
সেখান থেকে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন নিসাঙ্কা ও কুসাল মেন্ডিস। দ্বাদশ ওভারে শ্রীলঙ্কা যেমন স্পর্শ করে শতরান, দুই ব্যাটসম্যান পূর্ণ করেন ফিফটি; মেন্ডিস ৩৫ বলে, নিসাঙ্কা ৩২ বলে।
মেন্ডিসকে ফিরিয়ে (৩৮ বলে ৫১) ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন মার্কাস স্টয়নিস। শ্রীলঙ্কার তাতে কোনো সমস্যা হয়নি।
নতুন ব্যাটসম্যান পাভান রাত্নায়েকে শুরু করেন প্রথম দুই বলে চার মেরে। নিসাঙ্কা এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে।
জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার যখন ১৩ রান, সেঞ্চুরির জন্য নিসাঙ্কার চাই তখন ১১। অ্যাডাম জ্যাম্পাকে দুটি চারের পর দুই রান নিয়ে ৯৯ রানে পৌঁছে যান তিনি। পরের বলে এক রান নিয়ে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করেন ৫২ বলে। ওই ওভারেই চার মেরে ম্যাচের ইতি টেনে দেন রাত্নায়েকে (১৫ বলে ২৮*)।
এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৩৪ বলে ৭৯ রানের।
শ্রীলঙ্কার হয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিসাঙ্কার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এটি। বিশ্বকাপে দলটির হয়ে তার আগে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহেলা জায়াওয়ার্দেনে, ২০১০ আসরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন কোনো ব্যাটসম্যান।
৩ ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে শ্রীলঙ্কা। ২ ম্যাচের দুটিই জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে জিম্বাবুয়ে। ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট করে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া তিনে, আয়ারল্যান্ড চারে আছে। তলানিতে ওমান এখনও পয়েন্ট পায়নি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157981