বগুড়ার সারিয়াকান্দি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান অপারেশন, উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী 

বগুড়ার সারিয়াকান্দি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান অপারেশন, উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী 

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দির ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার চালু করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একটি সিজারিয়ানের সফল অস্ত্রপচারের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বিনামূল্যে অপারেশন সেবা পেয়ে আনন্দিত এলাকাবাসী। হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি।

উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের শুভ মিয়া (২৪)। তার স্ত্রী শুভতারা বেগম (১৮)। প্রথমবারের মতো গর্ভবতী হয়েছেন। শুভ রাজমিস্ত্রী কাজের হেলপার হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সারাদিন রোদে পুড়ে কাজ করে যা পান তাই দিয়েই ডালভাত কেনেন। তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে তিনি চিন্তায় ছিলেন। বর্তমান সময়ে সাধারণত সিজারিয়ান ছাড়া সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

সিজারিয়ান অপারেশন করতেও প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এতো টাকা জোগাড় করতে শুভ দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যান। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে যখন তার স্ত্রী শুভতারার প্রসব বেদনা উঠে, তখন তিনি একেবারেই চোখে সর্ষের ফুল দেখেন। নিরুপায় হয়ে তিনি তার স্ত্রীকে সারিয়াকান্দি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে এ হাসপাতালে তার স্ত্রীর বিনাখরচে সিজারিয়ান অপারেশন হয়। তার একটি ফুটফুটে ছেলে হয়েছে। সন্তানের নাম রেখেছেন তাসকিন।

হাসপাতালের একটি কেবিন কক্ষে তার স্ত্রীকে রাখা হয়েছে। সেখানে তার স্ত্রী এবং সদ্য ভূমিষ্ট ছেলে সুস্থ রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে অপারেশন থিয়েটারে শুধুমাত্র নরমাল ডেলিভারিতে সন্তান প্রসব করানো হতো। কিন্তু এই প্রথম এ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা হয়েছে এবং এটিই এ হাসপাতালের প্রথম অস্ত্রোপচার।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব হোসেন সরদারের নেতৃত্বে অপারেশনে সহায়তা করেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. তাসলিমা আবিদ শাপলা, ডা. মনিরা আঞ্জুমান, আরএমও ডা. তানজিম আহমেদ, ডা. মাশকুরুর মোকাররম জিম, ডা. সুবির চন্দ্র মজুমদার এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুল হাই।

শুভ মিয়া বলেন, আমি একজন গরিব মানুষ বিনামূল্যে হাসপাতালে আমার স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশন করে খুবই খুশি। আমার স্ত্রী এবং সন্তান দুজনেই ভালো আছে। আমার এ উপকার করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

সারিয়াকান্দির মেহেদী হাসান সুফল বলেন, আমাদের হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী খুবই আনন্দিত। নদী ভাঙন কবলিত এ এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ এর আগেই নেয়া উচিত ছিল। হাসপাতালটি ৫০ শয্যা হওয়ায় এখানে রোগীদের নানাবিধ সমস্যার শিকার হতে হচ্ছে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব হোসেন সরদার বলেন, এটি এ হাসপাতালের প্রথম অস্ত্রোপচার। সারিয়াকান্দির দুর্গম চরাঞ্চলের এবং গরিব রোগীদের কথা চিন্তা করে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ হাসপাতালে কোনও এনেস্থিসিয়া ডাক্তার নেই, যা সোনাতলা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

এছাড়া বেশকিছু জনবল কাঠামোর অভাব রয়েছে। উপযুক্ত জনবল কাঠামো পেলে ইনশাআল্লাহ আরও ভালো কিছু করতে পারবো। এখানে সকল ধরনের গরিব রোগীরা ফ্রি অপারেশন সুবিধা পাবেন।

বগুড়া-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, সারিয়াকান্দি হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে পর্যায়ক্রমে বেড সংখ্যা উন্নীত করা আমার নির্বাচনি ইশতেহার। এর জন্য সকল ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ আসনের গরিব মেহনতি মানুষরা বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়াও সকল ধরনের উন্নত ধরনের চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157973