তারেক রহমান হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : বগুড়ার মানুষের আশা পূরণ
রাহাত রিটু: আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বগুড়ার স্যাদো মাটির সন্তান বগড়্যার ছোল তারেক রহমান। তিনি দেশে ১১ তম ব্যক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম চড়াই উৎরায় কন্টকপথ প্রেরিয়ে তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জেল জুলুম নির্বাসন জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান, একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবীদ ও নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনানুষ্ঠানিক ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী মায়ের কাছাকাছি থেকে তিনি রাজনীতি এবং রাষ্ট্রপরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করতে শেখেন। অল্প বয়স থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে তার মা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিএনপিতে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর, তার নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। সে সময় তৎকালীন সরকার তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে প্রায় পঙ্গু করে ফেলে।
তাকে জেল হাজতে নির্যাতন করা হয়। আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক অভিযোগে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০০৭ সালের পর তার বিরুদ্ধে মোট ৮৪টি মামলা হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ এনে তার উপর মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, আদালত তাকে দণ্ডপ্রাপ্ত সকল অভিযোগ থেকে খালাস দেয় এবং তার সাজা বাতিল করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
তারেক রহমান বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। সেখান থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রথমে ভর্তি হন পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে যোগদান করে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।
আনুষ্ঠানিক ভাবে সংগঠনে যোগ দেয়ার আগেই তারেক রহমান রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তারেক রহমান বেগম জিয়ার প্রচারণা কার্যক্রমের পাশাপাশি পৃথক পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। মূলত ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তার অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে।
২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্মপ্রাপ্ত হন। দলের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পরপরই তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন।
মূল সংগঠনসহ সহযোগী সংগঠন যেমন জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ইত্যাদি আয়োজিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ও মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। মূলত এই জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মাঝে তারেক রহমান শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিত থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
২০০৯ সালের গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উক্ত কাউন্সিলে তারেক রহমানের একটি ধারণকৃত বক্তব্য উপস্থিত জনসমাবেশের উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়। বক্তব্যটিতে তারেক রহমান জানুয়ারি ২০০৭-এ ক্ষমতায় আসা অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে তার অন্যায় গ্রেফতার ও বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
২০০৮ এর আগস্টে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো আদালতে গতি লাভ করে। প্রায় আঠারো মাস কারান্তরীণ থাকার পর ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে সবগুলো মামলায় তারেক রহমান জামিন লাভ করেন ও তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন।
১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে বিশেষ কারাগার থেকে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমানকে দেখতে যান। সেদিন রাতেই তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
২০২৫ সালের ১৩ জুন, যুক্তরাজ্য সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি দেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এ বৈঠককে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সাথে জোবাইদা রহমানের বিয়ে হয়। জোবাইদা সাবেক নৌ বাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান এর মেয়ে। তারেক ও জোবাইদা দম্পতির জাইমা রহমান নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানসহ বাংলাদেশে ফিরে আসেন, যার মাধ্যমে ২০০৮ সাল থেকে তার প্রবাস জীবনের অবসান ঘটে। ৯ জানুয়ারী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হন। ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২১২ আসন পেয়ে নিরুঙ্কুশ বিজয় লাভের পর আজ তিনি প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরবর্তীতে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করবেন এবং আগামী ৫ বছরের জন্য তিনিই হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু বগুড়ার মাটি ও মানুষের এই নেতা বগুড়া-৬ আসন থেকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে এবং ঢাকা-১৭ এলাকা থেকে ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আজ ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন। বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় এই আসনে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বগুড়ার আপামর জনতার কন্ঠে একই ধ্বনি বগড়্যার ছোল প্রধানমন্ত্রী।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157970