বগুড়ার সোনাতলায় রোজাকে সামনে রেখে ডিমের চাহিদা বেড়েছে

বগুড়ার সোনাতলায় রোজাকে সামনে রেখে ডিমের চাহিদা বেড়েছে

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: সোনাতলায় রোজাকে সামনে রেখে ডিমের চাহিদা বেড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যের তালিকায় রাখা হয়েছে ডিম। চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলায় দৈনিক লক্ষাধিক ডিম বিক্রি হচ্ছে।

যমুনা ও বাঙালি নদী বেষ্টিত উপজেলা সোনাতলা। ওই উপজেলার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় তাদের। এদের মধ্যে কেউ কৃষি শ্রমিক, আবার কেউবা রিকশা চালক। সংসার নামের ঘানি টানতে তারা অবিরাম পরিশ্রম করলেও এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের মুখে দু’বেলা দুমুঠো অন্ন জোটাতে পারে না। তাই তারা মাছ মাংসের পরিবর্তে খাদ্য তালিকায় প্রাধান্য দিচ্ছেন ডিমকে।

আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, মহব্বতের পাড়া, ভিকনের পাড়া, সরলিয়া, পূর্ব তেকানী, খাটিয়ামারি এলাকায় গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই উপজেলার হাটে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগী ১৭০ থেকে ২শ’ টাকা কেজি, সোনালী মুরগী ২৮০-৩০০ টাকা, দেশী মুরগী ৫৩০-৫৮০ টাকা, রুই মাছ ৩২০-৩৫০ টাকা তবে আকার ভেদে ৪০০-৫০০ টাকা, কাতলা মাছ ২৮০-৩৫০ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ১৫০-২৬০ টাকা, পুটি কার্প ২০০-২২০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ১৬০-১৯০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

নদীকূলীয় ও চরাঞ্চলের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরের ৩-৬ মাস তাদেরকে পানি বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়। তাই শুষ্ক মৌসুমে তাদেরকে ভবিষ্যতের চিন্তা করে সাংসারিক খরচ চালাতে হয়। প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকা মানুষকে রোজাকে সামনে রেখে সামর্থ্য অনুযায়ী ডিম কিনতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকার শাফি ডিম ঘরের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল খালেক প্রামানিক বলেন, রোজাকে সামনে রেখে ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। এক সময় দৈনিক ৫০ হাজার ডিম বিক্রি হলেও বর্তমানে ৭০ থেকে ১ লাখ ডিম প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি খাচি ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157943