ইসরাইলি বাহিনীর একটি বড় অংশ দ্বৈত নাগরিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি সদস্যের বিদেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। সরকারি সেনাবাহিনীর তথ্যের উপর ভিত্তি করে দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথ প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এ তথ্য।
সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, হাৎসলাচা নামে একটি স্বচ্ছতা সংক্রান্ত সংগঠন তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পর এই তথ্য প্রকাশ করেছে।ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি জাতীয়তার পাশাপাশি ৫০ হাজার ৬৩২ জন সেনার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ১২ হাজার ১৩৫ জন, ফ্রান্সের নাগরিক ৬ হাজার ১২৭ জন আর রুশ নাগরিক রয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।পরিসংখ্যানে আরো বলা হয়েছে, ৩ হাজারেরও বেশি ইসরাইলি সেনার জার্মান নাগরিকত্ব এবং প্রায় একইসংখ্যক ইউক্রেনের নাগরিকত্বধারী। এক হাজারেরও বেশি সেনার ব্রিটিশ, রোমানিয়ার ১ হাজার ৬৮৬, পোল্যান্ডের এক হাজার ৩৮৭, এবং কানাডার নাগরিকত্ব রয়েছে এক ১৮৫ জনের। বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক। তবে এ তথ্যে ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, লেবানন, সিরিয়া এবং আলজেরিয়াসহ আরব দেশগুলোর নাগরিকত্বধারী সেনাদের সংখ্যা কম দেখানো হয়েছে।
এছাড়া তথ্য বলছে, ৪ হাজার ৪৪০ জন সেনা ইসরাইলি নাগরিকত্বের পাশাপাশি দুটি বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে। আর ১৬২ জনের রয়েছে তিনটি দেশের নাগরিকত্ব।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এসব তথ্যের জন্য প্রায় এক বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে অনুরোধ করা হয়েছিল। তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের পর প্রকাশিত এ পরিসংখ্যানকে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রথম বিস্তারিত প্রকাশ্য তথ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।তবে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেনি যে তথ্যটিতে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনা, রিজার্ভ সদস্য নাকি উভয় অংশকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইসরাইলি মিডিয়ার তথ্য বলছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনার সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার, যার মধ্যে নিবন্ধিত বিজার্ভ সেনার সংখ্যা প্রায় চার লাখ থেকে চার লাখ ৬০ হাজারের মধ্যে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। গাজায় চালানো এই গণহত্যায় নিহত হয়েছে ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা অর্ধেক। আহত হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে ইসরাইলি বোমা হামলা এবং স্থল হামলায় গাজা ভূখণ্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157894