জাবিপ্রবিতে ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে হট্টগোল

জাবিপ্রবিতে  ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে হট্টগোল

অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। এ ঘটনায় দিনভর দফায় দফায় হট্টগোল এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই দফায় দফায় এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে পরীক্ষা দিতে পারেনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী।

রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ গেটে তালা দিয়ে গেটের সামনে অবস্থান করে। এ সময় তারা বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে শহিদের রক্তের উপর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। ডিপিপির নামে কালক্ষেপণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ অপচয় হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য অব্যাহত আছে।’ 

প্রশাসন চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এবং প্রোক্টর সাদিকুর রহমান, প্রভোস্ট ফরাদ আলী ও মৌসুমী আক্তার, মাহবুব আলম জনসংযোগ কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্টার আহসান হাবিব, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়েছেন। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ভিসির সহযোগিতায় প্রো-ভিসির লোকদেরকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। পরে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবি জানান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলনকারীদের ব্যানার খুলে ও গেটের তালা ভেঙ্গে ফেলেন। 

তারা বলেন, ‘সাধারণ কোনো শিক্ষার্থী এ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের অযৌক্তিক আন্দোলনকে যৌক্তিক দেখানোর জন্য ব্যানারে তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।’ 

পরে দুপুরে বিষয়টি সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের কারণে সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পরীক্ষা দিতে পারেনি প্রায় অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157859