মুনাফিকদের ৪ নিকৃষ্ট কাজ
সুরা বাকারার ১১-১৬ আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা জমিনে ফাসাদ করো না, তারা বলে, আমরা তো সংশোধনকারী। জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা ফাসাদকারী; কিন্তু তারা বোঝে না। যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা ইমান আন যেমন অন্য মানুষজন ইমান এনেছে, তারা বলে, আমরা কি ইমান আনব যেমন নির্বোধরা ইমান এনেছে?
জেনে রাখ, নিশ্চয় তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না। যখন তারা মু’মিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, আমরা ইমান এনেছি; আর যখন তারা নিভৃতে তাদের শয়তানদের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথেই আছি, আমরা শুধু তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-তামাশা করি। আল্লাহ তাদের সঙ্গে উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের মত ঘুরে মরার অবকাশ দেন। তারাই হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী ক্রয় করেছে, তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি আর তারা সৎপথপ্রাপ্তও নয়।”
এ আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য সত্য স্বীকার না করে ধোঁকা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া যা ভীরু ও কাপুরুষদের কাজ। মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হলো সঠিক দলিল প্রমাণের মাধ্যমে সত্য পর্যন্ত পৌঁছা, সাহসের সাথে সত্য স্বীকার করে তার ওপর অবিচল থাকা। তারা ভ্রান্ত পথের অনুসারীদেরও কল্যাণ কামনা করে এবং তাদের আহ্বান জানায় ভ্রান্তির পথ ছেড়ে সত্যের পথে আসতে, নিজেদের সংশোধন করতে।
যারা ইমানের বদলে কুফর গ্রহণ করেছে, হোদায়াত, কোরআন, নুর ও সঠিক পথের বদলে ভ্রান্তি ও অসারতার অন্ধকার গ্রহণ করেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা নিজেদের মূলধন অর্থাৎ সুস্থ প্রবৃত্তি ও জ্ঞান নষ্ট করেছে। যে ব্যবসায়ী নিজের মূলধন নষ্ট করে মানুষ তাকে নির্বোধ ও আহম্মকই বলে। মুনাফিকদের অবস্থাও তাই।
আল্লাহ এখানে মুনাফিকদের চার ধরনের খারাপ কাজ ও স্বভাব বর্ণনা করেছেন। প্রত্যেকটা প্রকারই শাস্তির উপযুক্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট:
১. মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা। মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া।
২. মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
৩. ইমান, অন্তরের বিশুদ্ধ বিশ্বাস ও সে অনুযায়ী নেক কাজ থেকে দূরে থাকা।
নির্বোধ হওয়ার কারণেই ইহুদি ধর্ম থেকে মুনাফিক হওয়া এই লোকগুলো মুমিনদের সঠিক পথ অনুসরণের বদলে নিজেদের মুক্তির জন্য নির্ভর করতো কিছু অমূলক আশার ওপর। যেমন কোরআনের ভাষায়, ‘তারা বলে, অল্প কয়েক দিন ছাড়া আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না।’ (সুরা বাকারা: ৮০) ‘আমরা আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়জন।’ (সুরা মায়েদা: ১৮)
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157854