চারটি ফুটবল মাঠের সমান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ যাচ্ছে ইরানের দিকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ক্ষমতার পালাবদলের আবহে ইরান সীমান্তে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবার ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড'কে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শুক্রবার এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তনই এখন পরিস্থিতির সেরা সমাধান হতে পারে এবং সেই লক্ষ্যেই মার্কিন প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে।পারস্য উপসাগরে ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দিতে জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে দ্রুতগতিতে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। এটি সেখানে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় নিতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জেরাল্ড আর ফোর্ডের মূল শক্তি হচ্ছে এর উন্নত বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রযুক্তি। পুরনো আমলের স্টিম ক্যাটাপল্টের বদলে এটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম। এর ফলে জাহাজটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একসাথে অনেকগুলো যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়াতে এবং নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম। এই রণতরীতে ৬০ থেকে ৭৫টি অত্যাধুনিক বিমান বহন করা সম্ভব, যার মধ্যে রয়েছে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট, ই-২ডি হকআই এবং এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার। সাধারণ রণতরীগুলো দিনে গড়ে ১২০টি বিমান উড্ডয়ন করাতে পারলেও জেরাল্ড আর ফোর্ড জরুরি অবস্থায় দিনে সর্বোচ্চ ২৭০টি পর্যন্ত বিমান পাঠাতে সক্ষম।
বিশালাকার এই রণতরীটি আধুনিক নৌ-প্রকৌশলের এক বিস্ময়। প্রায় ৩৩৭ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটিকে এর বিশালাকৃতির কারণে 'সমুদ্রের বুকে ভাসমান চারটি ফুটবল মাঠ' হিসেবে অভিহিত করা হয়। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই জাহাজটি মূলত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌ-শহর হিসেবে কাজ করে। এর ভেতরে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি সেনার থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনের সব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অফুরন্ত শক্তি। দু’টি শক্তিশালী এ১বি (A1B) নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর পরিচালিত হওয়ায় এটি জ্বালানি ছাড়াই বছরের পর বছর সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে। এই শক্তি ব্যবহার করেই জাহাজটি সমুদ্রে নোনা জল থেকে পানযোগ্য পানি এবং বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা একটি ছোট শহরের চাহিদার সমান।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157770