প্রথমবার সংসদে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

প্রথমবার সংসদে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম এক আসনে জয় নিয়ে সংসদে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো এক হয়ে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন এবং গণভোট আলাদা দিনে করার দাবিতে একজোট হয়ে যুগপৎ আন্দোলনে নামে। এরপর সিদ্ধান্ত হয় জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের টানাপড়েন দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ২৫৮ আসনে প্রার্থী দেয় দলটি। এর মধ্যে বরগুনা-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন দলটির প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ। প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছে দলটি।

ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে একটি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের জন্ম। দলটির সূচনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ। পরবর্তীকালে মতভেদ ও বিভক্তির প্রেক্ষাপটে এটি পীর সাহেব চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে একটি পৃথক রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। ১৯৯১ সাল থেকে দলটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে সক্রিয় হয়। ২০০৮ সালে নাম পরিবর্তন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয় দলটি। সেই থেকেই দলটির প্রতীক হাতপাখা।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৫৮ আসনে প্রার্থী দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্যে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে নির্বাচন করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। যদিও তিনি দুটি আসনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরেছেন।

বরিশাল নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। আর মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।


বরিশাল-৬ আসনেও বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি ফয়জুল করীম। এ আসনে মোট ১১৩ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবি। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।

দেশের অন্যান্য আসনেও দলটির প্রার্থী থাকলেও বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মো. অলি উল্লাহ। তিনি বরগুনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লাকে ৪ হাজার ১৭৫ ভোটে হারিয়েছেন অলি উল্লাহ।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, অলি উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৬ ভোট।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157718