আজ সুন্দরবন দিবস
সারা বিশ্বের মানুষ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে উদযাপন করেন। তবে বাংলাদেশের সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে দিনটি পালিত হয় ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে। ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে এই দিবস, যা সুন্দরবনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণের গুরুত্বকে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ।জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুই দশকের বেশি সময় ধরে সুন্দরবন দিবস পালন করা হচ্ছে।
দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধ, বনজ প্রাণী ও উদ্ভিদের সুরক্ষা, এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বন সংরক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সুন্দরবন দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক বাঁধ হিসেবে কাজ করে এবং অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল সরবরাহ করে। বিশেষ করে বিশ্বের বিরল প্রজাতির রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রধানত এই বনেই থাকে।
১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বন বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেমন লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যপ্রাণী শিকার, গাছ পাচার এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরা। প্রকৃতি ও মানুষের আগ্রাসনে বনের অবস্থা বিপর্যস্ত।
২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরো ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনে ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ ও ৫০৫ প্রজাতির বন্য প্রাণীর বাস। এর মধ্যে রয়েছে ৪৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৮৭ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী ও ৩৫৫ প্রজাতির পাখি।
প্রসঙ্গত, জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্যের জন্য ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আর ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকো সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157715