সগর্বে আবির্ভূত তারেক রহমান

সগর্বে আবির্ভূত তারেক রহমান

অতঃপর এই প্রথমবার এমপি হয়েই প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, আমাদের বগুড়ার সন্তান,বহুমাত্রিক নতুন প্রজ্ঞা,  প্রতিভারস্ফূরণ, নিজেকে ভেঙ্গে নিজেকে তৈরি করা তারেক রহমান।  তারেকেই আস্থা দেশবাসীর। অভিনন্দন, বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারেক রহমান। বাবা, মা এবং ছেলের ইতিহাস। দেশের এবং দেশের মানুষের মঙ্গল হোক। ভূমিধস জয় বিএনপির, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ও তার মিত্ররা ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের হাল ধরতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ঈদ উৎসব আখ্যায়িত ভোটে  নির্বাচনি ফলাফল ও ব্যক্তিগত জয় তারেক রহমান নিজে দুটি আসন বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ থেকে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন । বগুড়া-৬ আসনে তিনি ২,১৬,২৮৪ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে দলের মিডিয়া সেল। পরবর্তী সরকার গঠন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে আগামী ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে । নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি এক বিবৃতিতে জানায়, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই জয়কে তারা উৎসবের বদলে দোয়ার মাধ্যমে উদযাপন করবে। তারেক রহমান ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমর্থকদের রাস্তায় বিজয় মিছিল না করে মসজিদে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তারেক রহমানের বার্তা : বিলেত থেকে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছিলেন তারেক রহমান। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দুর্নীতিমুক্ত নতুন ধারার রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। 
তিনি এলেন, দেখলেন, জয় করলেন বিখ্যাত লাতিন প্রবাদ ‘ভিনি, ভিডি, ভিসি’র মতোই যেন জাদুর কাঠি নিয়ে এলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর দেশে এসেই মন দিলেন দল গোছানোর কাজে। আমূল বদলে দিলেন আবহ। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিলেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেন। নিজে তো জিতলেনই, দলকেও নিয়ে গেলেন ভূমিধস বিজয়ের চূড়ায়। গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয়ের মাধ্যমে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট । 

নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে তার নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনি প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার সমর্থকেরা তাকেই বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন। তার দল বিএনপিও তাকে একক নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। প্রায় সতের বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে মাত্র একমাসের ম্যাজিকে ভোটের মাঠে বাজিমাত করেছেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হলেন হ্যামিলনের বংশীবাদক নির্বাচনের সুর ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান  দিয়ে ছিনিয়ে আনলেন এ আস্থার বিজয়। তারেক রহমান ম্যাজিক ছোয়ায় বগুড়ার ৭টি আসনে স্বতঃস্ফূর্ত বিজয় তারেক রহমানকে উৎসর্গ করে বিজয়,  এ বিজয়সাফল্য বগুড়াবাসির,  দেশবাসীর গর্ব ও সন্মানের প্রতীক। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার দোলাচালে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার অন্যতম মাইলফলক স্পর্শ করে পার করল বাংলাদেশ। উৎসব মুখর নির্বাচন দেখে অভিভূত ইইউ, কমনওয়েলথ সহ বিদেশি পর্যবেক্ষক দল। 

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণসমর্থন রয়েছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘সুস্পষ্ট জয়ের’ কথা উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ অভিনন্দন জানান। ‘একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সাথে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মানুষটা চুপ ছিলেন  কিন্তু ইতিহাস লিখে দিলেন! কত কথা শুনেছেন। কত অপবাদ সহ্য করেছেন। কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু ইউটিউবার তাঁকে নিয়ে আগুন জ্বালিয়েছে   কিন্তু মানুষটা একটা কথাও বলেননি। জবাব দেননি মুখে, দিয়েছেন কাজে। দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

এমন রক্তপাতহীন নির্বাচন কম দেখেছে বাংলাদেশ। দেশবাসী মনে করে  নির্বাচন সফল করার সবচেয়ে বেশি ও কষ্টকর অবদান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর।


লেখক

মাহমুদ হোসেন পিন্টু

প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157708