আজ ভালবেসে আত্মার সঙ্গে  সম্পর্কিত হওয়ার দিন 

আজ ভালবেসে আত্মার সঙ্গে  সম্পর্কিত হওয়ার দিন 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রেম হলো মানুষের সহজাত প্রবণতা। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস এ দুটি উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু ভালোবাসা। একটু গভীরভাবে ভাবলে বোঝা যায়, প্রকৃতি ও বিশেষ মানুষের প্রতি ভালোবাসা আলাদা কিছু নয়।

আজ ভালোবাসা দিবস। আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার দিন। ফাগুনের পাগল হাওয়ায় মনে ভালবাসার রিংটোন বাজতে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসকে ভালবাসার পাঠশালা হিসেবেও ধরা হয় । অনেকেই মনে করেন প্রেমের জন্য আলাদা কোনও দিন হয় না, প্রত্যেকটা দিনই প্রেমের দিন, ভালবাসার দিন। আবার কেউ কেউ বেশ ঘটা করেই এই মাসে উদযাপন করেন প্রেমের সপ্তাহ। এ মাসে   ৭ ফেব্রুয়ারি ছিল রোজ ডে। এ সময় বাজারে নানা রঙের গোলাপ পাওয়া যায়। নানা রঙের গোলাপ দিয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সারপ্রাইজ দেয়ার দিন। ৮ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রোপোজ ডে।  যারা এখনও পছন্দের মানুষকে জানিয়ে উঠতে পারেননি নিজের ভালবাসার কথা,এই দিন তাদের জন্য। ৯ ফেব্রুয়ারি ছিল চকোলেট ডে। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল টেডি ডে। মন খুলে প্রমিস করার দিন ছিল ১১ ফেব্রুয়ারি। ১২ ফেব্রুয়ারি ছিল হাগ ডে উষ্ণ আলিঙ্গনে  ভালবাসার মানুষটাকে জড়িয়ে রাখার দিন। সাত দিন একটু একটু করে যে উদ্যাপন করেন প্রেমের মৌসুম, আজ তা বাঁধনছাড়া হবার পালা। 
গত কয়েক বছর আগে ভালোবাসা দিবস মূলত পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অংশ ছিল। তবে ‘ভালোবাসা’ কোন দেশ বা জাতি নয়। তাই ধীরে ধীরে এই দিবসও আমাদের সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেনটাইনস ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের এই ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ৪৯৬ খ্রীস্টাব্দে পোপ গেলাসিয়াস এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে দেশে দেশে এই দিবসটি পালন করা হয়।

 সবকিছু ছাপিয়ে ভালোবাসা হলো এক ধরণের প্রতিজ্ঞা। বসন্ত আর ভালোবাসার মিশেলে আজকের দিনটি হোক অনন্য। বসন্তের নির্মলতায় ভালোবাসা হোক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, পরিশুদ্ধ।

 

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157677