ভোটের ছুটি শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ, মহাসড়কে তীব্র যানজট

ভোটের ছুটি শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ, মহাসড়কে তীব্র যানজট

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো গার্মেন্টস শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ। বাসের সিট না পেয়ে ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকেই মালবাহী ট্রাক ও পিকআপে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ফিরছেন।

বগুড়ার শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম ও কাজীপুর সহ আশপাশের উপজেলা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক ঢাকার হেমায়েতপুর, গাজীপুর, চান্দুরা চৌরাস্তা ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ছিল ছুটির শেষ দিন। আগামীকাল শনিবার সময়মতো কাজে যোগ না দিলে চাকরি হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা।

আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শেরপুর উপজেলার ধুনট মোড় আন্তঃজেলা কোচ টার্মিনালে কর্মজীবী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঈদযাত্রার মতোই ছিল ব্যস্ততা ও বিশৃঙ্খলা। যাত্রী চাপকে পুঁজি করে কিছু বাস কাউন্টারে নিয়োজিতরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সকাল থেকেই ঢাকা বগুড়া মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে কাঁঠালতলা পর্যন্ত মহাসড়কের একটি লেন প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে দুরপাল্লার অনেক যানবাহনকে উল্টো পথে চলাচল করতে দেখা যায়, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে এ সময় সড়কে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

ধুনট উপজেলা থেকে ঢাকাগামী আরাফাত নামের এক যুবক বলেন, চার দিনের ছুটি আজ শেষ। ১৪ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। বাসে সিট নেই, ভাড়াও দ্বিগুণ। বাধ্য হয়ে ট্রাকে করে যেতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রওনা হয়েছি।

আরেক কর্মজীবী ফারুক জানান, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্বপরিবারে ভোট দিতে শেরপুরে এসেছিলাম। অফিস শনিবার থেকে শুরু। আজ না ফিরলে বিপদ। বাসে সিট নেই, অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে। তাই পরিবার নিয়ে ট্রাকে করে ঢাকায় ফিরছি।

শ্রমিকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়া ও যানবাহনের সংকটের কারণে তারা নিরাপত্তাহীনভাবে পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ বলেন, যাত্রীচাপের কারণে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157650