বগুড়ায় ৭টি আসনে মান্নাসহ ২০ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন
স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামানত হারিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। শুধু মাহমুদুর রহমান মান্না নয় বগুড়ার ৭টি আসনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৪ জন প্রার্থী ছাড়া ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী কোন প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে ওই আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় বগুড়ার ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার তালিকায় আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন,
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে ১২৭ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪ জন এবং প্রদত্ত ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৪টি। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) এ বি এম মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন ১ হাজার ২৬ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর (ডাব) মো. আসাদুল হক পেয়েছেন ৫৯৭ ভোট এবং গণফোরামের (উদীয়মান সূর্য) মো. জুলফিকার আলী পেয়েছেন ২৯৮ ভোট। আইন অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ১১৫ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩। নাগরিক ঐক্যের (কেটলি) মাহমুদুর রহমান মান্না পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট, জাতীয় পার্টির (লাঙল) শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন ৪৩৪ ভোট, তিনবারের এমপি এবার জামানত হারালেন।
ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) জামাল উদ্দীন পেয়েছেন ৯১৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (ট্রাক) মো. সেলিম সরকার পেয়েছেন ২৭৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র (সিঁড়ি) রেজাউল করিম তালু পেয়েছেন ১৮৩ ভোট পেয়ে জামানত হারালেন। মোট প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
একই কারণে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে প্রদত্ত ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৬ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) শাহজাহান আলী তালুকদার ও ১ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির (লাঙল) মো. শাহিনুল ইসলামের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রদত্ত ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৬ ভোটের মধ্যে ২ হাজার ৯৫৪ ভোট পেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মুহা. ইদ্রিস আলীর ও ১ হাজার ১০৭ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির (লাঙল) শাহীন মোস্তফা কামালের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে প্রদত্ত ৪ লাখ ৯ হাজার ১৯৫ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ১৩৪ ভোট পেয়ে এলডিপির (ছাতা) খান কুদরত-ই-সাকলায়েন, ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) মীর মো. মাহমুদুর রহমান ও ১ হাজার ৭৮২ ভোট বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির (কাস্তে) শিপন কুমার রবিদাসের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রদত্ত ৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮৫ ভোটের মধ্যে ২৭৬ ভোট পেয়ে জেএসডির (তারা) আবদুল্লাহ আল ওয়াকি, ২ হাজার ৫০৮ ভোট ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ ও ৭৯৫ ভোট পেয়ে একমাত্র নারী প্রার্থী বাসদের (মই) দিলরুবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রদত্ত ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬ ভোটের মধ্যে ৫২৮ ভোট পেয়ে মুসলিম লীগের (হারিকেন) আনছার আলী ও ২ হাজার ৩৭ ভোট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) শফিকুল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157645