নুইয়ে পড়া শরীর নিয়ে ভোট দিলেন আশির্দ্ধ আফছার আলী
স্টাফ রিপোর্টার : তখন দুপুর ১২টা। চারদিকে চিক চিক করছে রোদ্দুর। বগুড়ার কাহালু মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে নুইয়ে পড়া শরীরটা নিয়ে দলগাড়া গ্রাম থেকে আলতো পায়ে ভোটকেন্দ্রে আসছেন আশির্দ্ধ বয়সী আফসার আলী। ভোটকেন্দ্রে কথা হয় তার সাথে। মুখে তার হাসির ঝিলিক।
প্রশ্ন করতেই আবেগী কন্ঠে বলে ফেললেন দীর্ষ ১৭ বছর পর তিনি ভোট দিচ্ছেন। আগের এক তরফা ভোটে তিনি ভোট দিতে আসেননি মনের ক্ষোভে। গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে তিন তিনবার জালিয়াতির নির্বাচন করা হয়েছিল সে সময়।
তারপরও একবার তিনি কেন্দ্রে দিতে এসেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। ভোট দিতে এসে তিনি জানতে পারেন আগেই তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। সে সময়ে জালিয়াতি করে তার ভোট দিয়েছে অন্য কেউ। এতে তিনি মনে প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
এরপর থেকে পণ করেন জীবনদশায় আর কোন দিনই ভোট কেন্দ্রে আসবেন না তিনি। ভোট দিবেন না কোন প্রার্থীকে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপটটা আলাদা। ফ্যাসিস্ট পালিয়েছে। সুষ্ঠুভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। তিনি তার পছন্দের প্রার্থী ভোট দিবেন। সেইসাথে গণভোটও দিবেন।
কিছুক্ষণ পর তিনি লাইনের দাঁড়িয়ে থেকে ভোটকেন্দ্রের বুথে গিয়ে ভোট দেন তার পছন্দের প্রার্থীকে। এছাড়া দিয়েছেন গণভোটও। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে কোন মার্কায় ভোট দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি ‘টপ সিক্রেট’। পরক্ষণই একটু হেসে বললেন আমার ভোট আমি দিয়েছি, যাকে খুশি তাকে দিয়েছি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157537