রেজিস্টারে ৫৭ শিক্ষার্থী থাকলেও উপস্থিত মাত্র ৫ জন

রেজিস্টারে ৫৭ শিক্ষার্থী থাকলেও উপস্থিত মাত্র ৫ জন

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের পশ্চিম পদ্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের রেজিস্টার অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫৭ জন থাকলেও উপস্থিত মাত্র ৫ জন। এ দৃশ্য প্রতিদিনের। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে স্কুলে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কম।

উপজেলা সদর থেকে ৯/১০ কিলোমিটার পূর্বে বাঙালী নদীর নিভৃত পল্লী এলাকায় অবস্থিত পশ্চিম পদ্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ে এলেও কাঙ্খিত শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করতে আসেনা। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় পাঠ গ্রহণ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার খুব কম।

কাগজে কলমে শুধু শিক্ষার্থী নয়, জমি ৩৩ শতক থাকলেও বাস্তবে রয়েছে মাত্র ১৮ শতক। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৮ সালে স্থাপিত। ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা ৮ বছর আগে উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে ঘোষনা করেছে। তবে বিদ্যালয়টিতে আরেকটি টিনশেড আধাপাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেই ভবনে এখনও লাগানো হয়নি দরজা-জানালা।

ফলে স্কুলের বারান্দায় কিংবা স্কুলের খেলার মাঠে মাদুর বিছিয়ে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের রেজিস্টার অনুযায়ী, ওই বিদ্যাালয়ে শিশু শে্িরণতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮ জন, ১ম শ্রেণিতে ১১ জন, ২য় শ্রেণিতে ১২ জন, ৩য় শে্িরণতে ১৪ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ১২ জন, ৫ম শ্রেণিতে ১২ জন। এ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) উপস্থিত ছিল মাত্র ৫ জন। স্থানীয়রা জানান, এ দৃশ্য নিত্যদিনের।

স্থানীয় অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলম, জিয়ারুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার এরকম। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে হয়, চকলেট, বিস্কুট, খাতা-কলম, স্কুল ড্রেস কিনে দিয়ে।

এ ব্যাপারে অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই এলাকার অভিভাবকরা নিরক্ষর। তারা তাদের ছেলে মেয়েদের ব্যাপারে উদাসীন। এছাড়াও বাল্য বিয়ের কারণে স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপস্থিতির হার কম। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনায়েতুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে একটি টিনসেড ভবন নির্মানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/157079