জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আজহারীর নতুন বার্তা
প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার ও জনপ্রিয় বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশবাসীর প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ড. আজহারী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ আবারও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর সাধারণ মানুষ তুলনামূলকভাবে ভালো নেতা বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ গতিধারা নির্ধারণ করার দায়িত্ব এখন ছাত্র-জনতার হাতেই।
তিনি বলেন, নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সময়ে সংযম, সচেতনতা ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, উসকানি এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সক্রিয় হতে পারে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মতভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক হলেও তা যেন প্রতিহিংসা কিংবা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, এই দেশ সবার এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও সবার।
ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া দুঃখজনক বাস্তবতা। তিনি জানান, যুক্তিপূর্ণ আলোচনা ও সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু কাউকে অসম্মান করা যাবে না। ভিন্নমতকে তুচ্ছজ্ঞান না করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং ও ব্যাশিংমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। তারা চেতনা বিক্রি ও দোষারোপের রাজনীতির অবসান চায়। বিভাজনের রাজনীতিতে কারো কল্যাণ নেই উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি আসনে গণমানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানের প্রতিযোগিতায় নামার আহ্বান জানান। প্রতিপক্ষকে দোষারোপ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার কথাও বলেন তিনি।
একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ড. আজহারী। তিনি বলেন, আঠারো কোটি মানুষ একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন উপহার পেতে চায়। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীন আচরণ বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোটকে আমানত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে বিবেক, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আল্লাহর কাছে দোয়া করার অনুরোধ করেন, যেন জাতির জন্য কল্যাণকর নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। পরিশেষে তিনি বলেন, জনসমর্থনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন, সবাইকে তা মেনে নিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। নেতৃত্ব পথ দেখাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় ঐক্যবদ্ধ জনগণ। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান ড. মিজানুর রহমান আজহারী।