দিনাজপুর-২ আসনে জামায়াত-বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা
বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনটিতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। এবারের নির্বাচনে পোস্টার না থাকলেও প্রার্থী ও সমর্থকরা প্রতীক সম্বলিত লিফলেট নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। সেই সাথে প্রতিদিন বিভিন্ন হাট-বাজারে চলছে নির্বাচনি পথসভা ও সমাবেশ।
এদিকে কে কোন প্রার্থীকে তার ভোট প্রদান করবেন, কে হবেন আগামী দিনের কান্ডারী এনিয়ে চলছে ভোটারদের মাঝে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অপরদিকে প্রার্থী, মার্কা, দল এসব বুঝলেও গণভোট সম্পর্কে এখনো সন্দিহান তৃণমূল পর্যায়ের মহিলা ভোটারেরা।
আসনটিতে এবারের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১১২ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৬ জন। এ আসনের ভোটারেরা মনে করছেন, এবার আসনটিতে ভোটযুদ্ধে জামায়াত-বিএনপি ও বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট আটজন প্রার্থী। তারা হলেন-বিএনপি’র প্রার্থী আলহাজ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ একেএম আফজালুল আনাম, জাতীয় পার্টি’র মো. জুলফিকার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোবায়ের সাঈদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মোকারম হোসেন, ইসলাীম আন্দোলন বাংলাশের মুহা. রেদওয়ানুল কারীম রাবিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশীদ কালু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সেবক পার্টির চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার চৌধুরী জীবন।
তবে আসনটিতে বিএনপি’র সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাককে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য বিএনপি’র একাংশের নেতাকর্মীরা আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তন না হওয়ায় এ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হন আ ন ম বজলুর রশীদ কালু (মোটরসাইকেল প্রতীক)। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দলমত নির্বিশেষে মানুষের মন অনেকটা জয় করে ইতিমধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, মানুষ মার্কা দেখে নয় বরং এবার ব্যক্তি দেখে ভোট দিবেন। তাই তিনি মনে করেন, সব কিছু ঠিত থাকলে তার বিজয় নিশ্চিত। এদিকে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করতে সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক ও দলীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনাসহ ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারসহ দলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ধরে রাখতে দলের জেলা থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা যেন আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। ইতিমধ্যে এ আসনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেছেন, আমি কাউকে প্রতিপক্ষ বলে ছোট করতে চাই না। মানুষ জানে কে এবং কী। যে যাই বলুক, এই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ ধানের শীষ প্রতীকেই ভোট দিবেন এবং আমরা বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।
অপরদিকে আসনটিতে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি’র দলীয় কোন্দলের সুফল নিয়ে প্রথম থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ একেএম আফজালুল আনাম। তিনি এ সংসদীয় আসনের বিরল এবং বোচাগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে প্রবীণ এবং তরুণ ভোটাদের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মুটামুটি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ এবার সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সৎ মানুষকে ভোট দিবে ইনশাআল্লাহ।
তবে প্রচার প্রচরণায় তেমন পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী জুলফিকার হোসেন (লাঙ্গল প্রতীক)। তিনিও তার বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন তার বিজয় সুনিশ্চত।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এবার আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পতিত আওয়ামী লীগের দূর্গ বলে পরিচিত আসনটির অনেক আওয়ামী সমর্থিত সাধারণ ভোটার এখন পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে দ্বিধা-বিভক্তির মধ্যে আছেন। শেষ পর্যন্ত তাদের ভোট যে প্রার্থী বেশি নিতে পারবেন তার পাল্লায় ভারি হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156990