বাউফলে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪০
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পৌর শহরে ফের উভয় দলের কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারিয়া বাজার এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণা চালালে ধানের শীষ সমর্থিত বিএনপি কর্মীরা তাদের প্রচারণায় বাধা দেয়। এ সময় নারী কর্মীদের টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরঅডেল খানকা বাজার থেকে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের একটি মিছিল শুরু হলে বিএনপি কর্মী সোহেল রাড়ি (৩৫), আনোয়ার (৪০), মোহাম্মদ (৪৫), আবু কালাম (৪৫), নাইম (৩০) ও ফিরোজের (৩৫) নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক লোক রামদা, চাইনিজ কুড়াল, রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিলে পেছন দিক থেকে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জামায়াত কর্মীদের আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুর রউফ জানান, আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জামাল মৃধা নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরো পাঁচজনের অবস্থাও গুরুতর বলে জানান তিনি। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের হাজারো নেতাকর্মী বিভিন্ন দিক থেকে বাউফল শহরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাউফল থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সালেহ আহমেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজকের সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পৌর শহরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156977