পাকিস্তান থেকে পণ্য ও যাত্রীবাহী রেলকোচ কিনতে চায় বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রেল যোগাযোগ উন্নয়নে নতুন বিকল্পের দিকে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। তুলনামূলক কম দামে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী রেলকোচ সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়ায় পাকিস্তানের রোলিং স্টক কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি পাকিস্তান রেলওয়ের বিভিন্ন কারখানা ও ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, পাকিস্তান অন্য দেশের তুলনায় কম দামে রোলিং স্টক সরবরাহের প্রস্তাব দেয়ায় বাংলাদেশ পণ্যবাহী ওয়াগন ও যাত্রীবাহী কোচ কেনার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডনের তথ্যানুযায়ী, একজন জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি কর্মকর্তার নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান রেলওয়ের (পিআর) ইসলামাবাদের ক্যারেজ ফ্যাক্টরি এবং লাহোরের মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন এবং রোলিং স্টক তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখেন। লাহোরভিত্তিক পাকিস্তান রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কনস্যুলার বিষয়ক সচিব এবং মনোনীত ডি-৮ কমিশনার ফারহাদ ইসলাম এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান।
পাকিস্তান রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ক্যারেজ ও ওয়াগন) মুহাম্মদ নাসির খলিলি প্রতিনিধিদলকে ওয়ার্কশপগুলোর সার্বিক কার্যক্রম, কারিগরি সক্ষমতা ও চলমান প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। এসময় ওয়ার্কশপগুলোর কার্যকারিতা ও কর্মদক্ষতা তুলে ধরে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হয়। খলিলি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ; দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে রেল খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।
এরপর প্রতিনিধিদলকে মুঘলপুরা লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেখানে লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। কূটনীতিকরা তাদের এই সফরকে তথ্যবহুল, ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন এবং পাকিস্তান রেলওয়ের কারিগরি দক্ষতা ও পেশাদার সক্ষমতার প্রশংসা করেন। ফারহাদ ইসলাম বলেন, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।
এদিকে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি দুই দেশের মধ্যে রেলওয়ে-টু-রেলওয়ে সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনতে পারে।
বর্তমানে পাকিস্তান রেলওয়ে ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে-এমন চারটি দেশে কোচ ও ওয়াগন সরবরাহ করছে। দেশগুলো হলো শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনা। এক বিবৃতিতে রেলমন্ত্রী বলেন, এটি প্রমাণ করে যে কোচ ও ওয়াগন উৎপাদনে আমরা আধুনিক ও স্বদেশি সক্ষমতা অর্জন করেছি। খলিলি জানান, পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত কারিগরি মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশের রেল বিশেষজ্ঞরাও পাকিস্তান সফর করবেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156901