চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্ব

চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চলতি সপ্তাহটি ছিল কিয়ার স্টারমারের জন্য সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ। কারণ, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সিনিয়র নেতা ও কূটনীতিক লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ হয়েছে। আর এ কারণে নিজ পদ থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন ম্যান্ডেলসন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এপস্টেইন নথিতে নতুন তথ্য পাওয়ায় তিনি লেবার পার্টি ছাড়ার ঘোষণা দেন।

পদত্যাগের পর ম্যান্ডেলসন জানান, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক নিয়ে যাতে আর কোনো ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তার।তবে ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগের পরও খুব একটা স্বস্তিকর অবস্থায় নেই প্রধানমন্ত্রীর দল। দলের অন্যরা এখন তাদের নেতা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। ওয়েস্টমিনস্টার গত দশকে প্রচুর নেতৃত্বের সংকট দেখেছে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার কয়েক মাস ধরে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।

ধারাবাহিক রক্ষণশীল সরকারের অস্থিরতার পর স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে লেবার পার্টি। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কম জনপ্রিয়তা তার অবস্থানকে আরো দুর্বল করে তোলে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের আগে স্টারমার তার নিজের অবস্থান নিয়ে দুর্বলতার চিত্রকে খুব একটা আমলে নেননি। লেবার এমপিদের পক্ষে একজন নেতাকে পরিষ্কারভাবে এবং দ্রুত অপসারণের সহজ কোনো প্রক্রিয়া নেই। একজন এমপি নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন তবে প্রধানমন্ত্রী যদি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রীকে জোর করে পদত্যাগ করার বিকল্প উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে দলের মধ্যে। যেমন লেবার এমপিদের মধ্যে আস্থা ভোট অথবা সিনিয়র ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে সমন্বিত বার্তা। কিন্তু এ পদ্ধতিগুলো কাজ করবে বলে নিশ্চিত নয়। কিছু এমপি অনুমান করছেন, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ হলে সমর্থন হারাতে পারেন কিয়ার স্টারমার। যেমনটা হয়েছিল সাজিদ জাভিদ এবং ঋষি সুনাক পদত্যাগ করার সময় বরিস জনসনের সঙ্গে। কিন্তু এই মুহূর্তে কে এ দায়িত্ব পালন করবেন, তা স্পষ্ট নয়।যদি পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। এর প্রথমেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের সংসদে একটি আসন থাকতে হবে, যা নির্ধারণ করা আছে লেবার পার্টির ‘রুল বুক’ বা নিয়ম বইয়ে। হাউস অব কমন্সে দলের কমপক্ষে ২০ শতাংশ সদস্য অর্থাৎ ৮১ সদস্যকে এর বিরোধিতা করতে হবে, যা কনজারভেটিভদের তাদের নিজস্ব নেতাদের বিরুদ্ধে আস্থা ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫ শতাংশ এমপির সীমার চেয়েও বেশি।

আরেকটি ধাপ যা আপাতত প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাধাগ্রস্ত করবে তা হলো, ২৬ ফেব্রুয়ারির গোর্টন এবং ডেন্টনের সংসদীয় আসনে একটি জটিল বিশেষ নির্বাচন। ২০২৪ সালে আসনটি আরামে জিতেছিল কিন্তু এবার এটি ধরে রাখার জন্য তাদের সত্যিকারের সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দলের মধ্যে এমন কিছু লোক আছেন যারা আশঙ্কা করছেন, তারা গ্রিনস এবং রিফর্ম ইউকের চেয়েও পিছিয়ে থাকবে অর্থাৎ তাদের অবস্থান হবে তিন নাম্বারে।

যদি ফলাফল লেবারের জন্য বিপর্যয়কর হয়, তবে ধরে নিতে হবে সাম্প্রতিক সমস্যাগুলোর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ব্যালট বাক্সে। এটি অনিবার্যভাবে দলের এমপিদের উদ্বিগ্ন করে তুলবে।

এছাড়া আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং ইংলিশ কাউন্সিলের নির্বাচন। এ নির্বাচনকে দীর্ঘদিন ধরেই দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিপদের মুহূর্ত হিসেবে।

লেবার পার্টি যুক্তি দিতে পারে, পরাজয়ের স্বাদ নিয়েই স্টারমারকে দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। কারণ, ওয়েলসে পরাজিত হবে লেবার পার্টি। সম্ভবত প্লেইড সাইমরু এবং রিফর্মের পর তৃতীয় স্থানে থাকবে দলটি। একই অবস্থা স্কটল্যান্ডেও। এখানেও তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারে লেবার পার্টি, এসএনপি এবং রিফর্মের পর। তবে ইংল্যান্ডে স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে লেবার পার্টির। যদি মে মাসের পরও স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন, তবে আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টির পতনের মাত্রা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র সান্ত্বনা, তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এবং সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ নিতে খুব একটা প্রস্তুত নন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156882