এপস্টেইন নথি : লম্বা, স্বর্ণকেশী সুইডিশ তরুণী চেয়েছিলেন আম্বানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের উন্মোচিত বিপুলসংখ্যক নথিতে দেখা গেছে, ভারতের একসময়ের শীর্ষ ধনী আম্বানি পরিবারের সন্তান অনিল আম্বানির সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের গভীর সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অনিল আম্বানি এবং এপস্টেইনের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান হতো। ২০১৭ সালের ৯ মার্চের একটি চ্যাটিংয়ে এপস্টেইন আম্বানিকে তার নারীদের প্রতি পছন্দের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘কেমন (নারী) তোমার পছন্দ?’ জবাবে আম্বানি বলেছিলেন, ‘তোমার প্রস্তাব শুনি।’ এপস্টেইন তখন প্রস্তাব করেন, ‘একটা লম্বা সুইডিশ স্বর্ণকেশী নারী হলে ভ্রমণের আনন্দ বাড়বে।’ এর উত্তরে মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে অনিল আম্বানি লিখেছিলেন, ‘এটাই ব্যবস্থা করো।’
অন্য একটি কথোপকথনে এপস্টেইন মজা করে আম্বানিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তার পছন্দের তালিকায় কোনো হলিউড অভিনেত্রী বা মডেল আছে কি না। এপস্টেইন রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আশা করি মেরিল স্ট্রিপ নয়, কারণ সে ক্ষেত্রে আমি কোনো সাহায্য করতে পারব না।’ জবাবে আম্বানি বলেন, ‘আমার রুচি আরও ভালো বন্ধু। আমাদের পরবর্তী সিনেমা স্কারলেট জোহানসনের সঙ্গে।’ উল্লেখ্য, ওই বছর আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত ‘ঘোস্ট ইন দ্য শেল’ ছবিতে স্কারলেট অভিনয় করেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মে মাসে অনিল আম্বানি নিউইয়র্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে এপস্টেইন তাকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘যদি এমন কেউ থাকে যাদের সঙ্গে তুমি নিভৃতে দেখা করতে চাও, তবে আমাকে জানাও।’ নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে এপস্টেইনের ম্যানশনে তাদের বৈঠকের বিষয়টিও সহকারীদের বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া প্যারিস এবং ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকেও তাদের সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল। রিপোর্টে দেখা গেছে, আম্বানি পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে এপস্টেইন ‘আম্বানি অ্যান্ড সন্স’সহ বেশকিছু বই অর্ডার করেছিলেন। ভারতীয়-মার্কিন আধ্যাত্মিক গুরু দীপক চোপড়ার কাছেও অনিল আম্বানি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন। চোপড়া আম্বানিকে ‘অত্যন্ত ধনী, পরিচিতি পাওয়ার জন্য উন্মুখ এবং সেলিব্রিটি সচেতন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তথ্য সূত্র : এনডিটিভি
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156807