বগুড়ার ধুনটে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নকারী সেই সভাপতি কারাগারে, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

বগুড়ার ধুনটে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নকারী সেই সভাপতি কারাগারে, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : ধুনটে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমানকে (৪৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লুৎফর রহমান উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ধেরুয়াহাটি গ্রামের আবুল কাশেম কানুর ছেলে এবং মুলতানি পারভীন শাহজাহান তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য পদত্যাগকৃত সভাপতি।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুলতানি পারভীন শাহজাহান তালুকদার (এমপিএসটি) উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ২৯ জানুয়ারি বাসযোগে নাটোরের গ্রীণভ্যালী পার্কে বার্ষিক বনভোজনে যান। ওই দিন রাতে সেখান থেকে ফেরার সময় পথিমধ্যে বাসের ভেতর গান বাজনার তালে সভাপতি লুৎফর রহমান কমপক্ষে ১৫ জন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত সভাপতির শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গতকাল বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কৌশলে সভাপতিকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনেন। কিন্তু সভাপতি বিদ্যালয়ে পৌছামাত্র বিক্ষোভকারীরা ধাওয়া দিলে প্রাণ বাঁচাতে অফিস কক্ষে ঢুকে পড়েন।

এসময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে অফিস কক্ষের দিকে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ অবস্থায় সভাপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন লুৎফর রহমান।  সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষোভকারীদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে ৫ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ সভাপতিকে উদ্ধারের পর থানায় সোপর্দ করে। এ ঘটনা রাতেই এমপিএসটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে লুৎফর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমান পাওয়া গেছে। মামলাটি তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156745