ভোটের মাঠে গ্রামে-গঞ্জে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন ঢাবির শিবির-ছাত্রদল নেতারা
সাকিব হাসান: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে গ্রামে-গঞ্জে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনটির ঢাবি ইউনিটের নেতাকর্মীরা। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়তে শুরু করেছে।
শিবির নেতাদের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মাঝে নৈতিকতা, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা বলছেন, ‘জুলাই বিপ্লবকে বাঁচিয়ে রাখতে’ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে তারা প্রচার চালাচ্ছেন। গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এবং তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করছেন শিবির নেতারা।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠপর্যায়ে প্রচার চালাচ্ছেন।ঢাকা মহানগর পূর্ব শিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর ছাত্রপরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ কুড়িগ্রাম ১ জামায়াতে ইসলামী ও ঢাকা ৮ এর জামায়াত- এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসিরউদ্দীন পাটয়ারীর পক্ষে মাঠ পর্যায়ে ভোট চাচ্ছেন। ঢাবি শিবির ও ডাকসুর কার্যনির্বাহী দুই সদস্য রায়হান উদ্দীন ও আনাস ইবনে মুনিরকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আয়োজিত নির্বাচনী জনসভাতে দেখা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাহিত্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ। এ বিষয়ে তিনি আরটিএনএনকে বলেন, “আমি জামায়াত জোটের প্রার্থী আখতার হোসেনের পক্ষে এবং রংপুর শহরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট চাইছি।”
ভোটের প্রচারে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাও। জানা গেছে, ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ একাধিক ডাকসু সংশ্লিষ্ট নেতা জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে ঢাবি শিবিরের একাধিক কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন। শিবিরের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি দিনাজপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন ঢাবি শিবিরের বিজ্ঞান সম্পাদক ইকবাল হায়দার। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছেন ঢাবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান। সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দীন খানও জামায়াতের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন আসন্ন নির্বাচনে জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আমরা চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে জনগণকে সচেতন করে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি দেশের মানুষ এইবার যোগ্য প্রতিনিধিদেরই বেছে নেবেন।
ঢাবি শিবিরের নেতারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ হয়ে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করছেন তারা। পিছিয়ে নেই ছাত্রদল: বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর নির্দেশ রয়েছে তাদের। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় প্রচারে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকে। বগুড়া-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে মেনেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার যুগ্ন আহব্বায়ক শাখা আব্দুল্লাহ আজিম।
দৈনিক করতোয়াকে তিনি বলেন "কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমাদের সমন্বয়ক কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই সমন্বিতভাবে বিএনপির ৩১ দফা পৌঁছে দেওয়া, বিএনপির পলিসি মানুষের কাছে তুলে ধরা, এছাড়া বিএনপি জনগণের জন্য কী কী করবে, তা জানাচ্ছি।
"আমাদের আরেকটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটা হলো, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ করা, যাতে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা-সমস্যা-প্রত্যাশা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি।"
নরসিংদী-৩ আসনে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম কাউসার। তিনি বলেন, “ছাত্রদল যেহেতু বিএনপির ভাতৃপ্রতিম সংগঠন, আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে বিএনপিকে জয়যুক্ত করা।
"আমি তো ছাত্র রাজনীতি করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি এলাকার প্রতিও আমার দায়িত্ব আছে। এলাকার মানুষকে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ করাও আমাদের দায়িত্ব।” একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে 'এলাকায় নিজেকে পরিচিত করাও' একটা উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেন এ ছাত্রদল নেতা।
ফেনী-১ আসনে বিএনপির প্রচারে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য কারিব চৌধুরী। তিনি বলেন, "আদর্শিক জায়গা থেকেই একজন তরুণ হিসেবে ফেনী-১ আসনের পথে-প্রান্তরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি এবং বিএনপির জনমুখী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, "আমাদের নেতাকর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে যাচ্ছেন, এজন্য আমরা সমন্বয়ক কমিটি করে দিয়েছি। "পাশাপাশি আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ গড়ার জন্য যে ৩১দফা দিয়েছেন, এতে মানুষের যে ভাগ্য পরিবর্তন হবে, সে সম্পর্কে সবাইকে বোঝাতে মূলত আমাদেরকে এলাকায় গিয়ে প্রচার চালাতে বলা হয়েছে।
এদিকে শিবির ছাত্রদল নেতাদের এই তৎপরতাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনী মাঠে নতুন করে রাজনৈতিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বাড়তে পারে। এসব কর্মকাণ্ড গ্রামবাংলার ভোটের হিসাব-নিকাশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156646