রক্তের ঋণ ভুলে গেলে বিশ্বাসঘাতকতা হবে: জোনায়েদ সাকি
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, আমরা যদি সেই রক্তের ঋণ ভুলে যাই, তবে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ছয়ফুল্লাহকান্দি ইউনিয়নের ফতেপুর বাজারে স্থানীয় এলাকাবাসী আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মিলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি ও স্বাক্ষর করেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে এই জুলাই সনদের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট হবে। আপনাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। কারণ এই সনদের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার যে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট চরিত্র, সেখান থেকে আমরা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পথ উন্মোচন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদনের পরে এই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী সংসদ সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করবে। ফলে কোনো আদালত এটি বাতিল করতে পারবে না। তাই আগামী জাতীয় সংসদ পাঁচ বছর সংসদ হিসেবে কাজ করবে। তবে প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। কাজেই এই দুটি ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ভোটের সিদ্ধান্ত আপনারা নিয়েছেন ‘হ্যাঁ’ ভোট। আর দ্বিতীয় ভোটটি সাধারণ ভোট।’
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শাকিল এবং পাহাড়ি, চাকমা, হিন্দু, মুসলমান সবাই প্রাণ দিয়েছে। জনগণ বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। এই বিষয়টি আমাদের মনে রাখা দরকার। যে জনগোষ্ঠী তার আত্মত্যাগকে স্মরণ রাখে না, তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে না। তাই রক্তের ঋণে আবদ্ধ হয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে।’
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে সাকি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ন্যায়বিচার ছাড়া এই রাষ্ট্র টিকে থাকবে না। প্রবল বৈষম্যের সমাজ টিকে থাকতে পারে না। তাই আমাদের বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের এই ভোট ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে। মানুষ যেন বিশ্বাস করতে পারে যে সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে, সেরকম একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
সমাবেশে তিনি সবাইকে ‘মাথাল’ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।