আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই বিপ্লবে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাত হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন-বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। জুলাই বিপ্লবের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটি তৃতীয় মামলার রায়। তবে ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রথম রায়। এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও চাঁনখারপুল মামলার রায় ঘোষণা করে। এরআগে গত রোববার রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করা হয়। গত ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষাণার জন্য অপেক্ষমান রাখে ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এ এস আই শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী হয়ে শহিদদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়ে জবানবন্দি দেন।

এবিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে ঢাকা অদূরে আশুলিয়ায় মানবাতার ইতিহাসের বর্বরতম একটা ঘটনা ঘটেছে। ছয়জন তরুণকে নির্মমভাবে শুধু গুলি করে হত্যা করা হয়নি, এই তরুণ ছাত্রদেরকে জীবন্ত অবস্থায় একজনকে ও বাকি পাঁচজনের লাশ গাড়িতে তুলে খড়ি-কাঠ দিয়ে পেট্রোল ঢেলে পোড়ানো হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম বর্বতার নজির খুব কম আছে। সুতরাং একটা সভ্য দেশে পুলিশ বাহিনীর সদস্য হয়ে যারা জাতির সূর্য সন্তানদেরকে এভাবে হত্যা করেছে তাদের অপরাধ ক্রিস্টাল ক্লিয়ারভাবে প্রমাণ হয়েছে। অপরাধীদের চেহারা ভিডিওর মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে লাইভ উইটনেস আছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী সবাই সাক্ষী দিয়েছেন। কাঁচের মত স্বচ্ছভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে । সুতরাং আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত হন একজন। মরণাপন্ন আহত ব্যক্তি ও পাঁচজনের মৃতদেহ প্রথমে একটি প্যাডেল ভ্যানে তোলা হয়। পরে ওই ভ্যান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা হয়। একপর্যায়ে ওই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন ও অজ্ঞাত একজন শহিদ হন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156601