এপস্টেইনকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক মন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক রাষ্ট্রদূত লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে দেশটির মেট্রোপলিটন পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের সময় অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত ইমেইল নথিতে দেখা যায়, ২০০৯ সালে গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় বাণিজ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ম্যান্ডেলসন মার্কিন অর্থদাতা ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে বাজারসংবেদনশীল সরকারি তথ্য পাঠিয়েছিলেন। খবর বিবিসির।
এ বিষয়ে লর্ড ম্যান্ডেলসন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিবিসি জানিয়েছে, তার অবস্থান হলো—তিনি কোনো অপরাধমূলক কাজ করেননি এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে কিছু করেননি।
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারিত হওয়া ম্যান্ডেলসন পার্লামেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে তিনি আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) ও রিফর্ম ইউকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্য সরকারও জানায়, প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইমেইলগুলোতে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট সংক্রান্ত ‘সম্ভাব্য বাজারসংবেদনশীল তথ্য’ থাকতে পারে।
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেন, তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলির কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য পাঠিয়েছেন। ব্রাউন অভিযোগ করেন, যদি এসব যোগাযোগ সত্য হয়, তা ক্ষমার অযোগ্য এবং দেশপ্রেমবিরোধী কাজ।পুলিশের বক্তব্য
মেট পুলিশ কমান্ডার এলা ম্যারিয়ট এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিপুল নথি প্রকাশের পর আমরা সরকারি অসদাচরণের অভিযোগ পেয়েছি, যার মধ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও একটি রেফারেল রয়েছে।

ম্যারিয়ট নিশ্চিত করেন, ৭২ বছর বয়সী এক সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক চলছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156519