পোস্টাল ব্যালটে কারাবন্দিদের ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারাবন্দি ভোটারদের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা মোট ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দি ভোটার নিজ নিজ কারাগারে স্থাপিত নির্ধারিত বুথে প্রবেশ করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ সকাল থেকেই কারাগারে স্থাপিত বুথগুলোতে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সরাসরি এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, সারাদেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা ৫ হাজার ৯৬০ জন বন্দি ভোটার আজ থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
তিনি আরও জানান, এর আগে ডাকযোগে খামযুক্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট সব কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আইজি প্রিজন জানান, বন্দিদের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পূর্বে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের সময়সীমা একদিন বাড়িয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ)-এর সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার জানান, বেলা ১১টা থেকে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ১০টি বুথে কারাবন্দি ভোটাররা ভোট প্রদান করছেন। এই কার্যক্রম বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণের আগে কারাবন্দি ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভোটাররা নির্ধারিত বুথে প্রবেশ করে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।
কারা সূত্র জানায়, দেশের সব কারাগারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ)। এখানে আনুমানিক ৬০০ জনের বেশি কারাবন্দি ভোটার রয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী কয়েকজন বন্দিকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। ওই বিশেষ কারাগারে দুটি বুথে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে মঙ্গলবার সেখানে কোনো রাজনৈতিক বন্দি ভোট দেননি। শুধু সাধারণ কয়েদিরা ভোট দিয়েছেন। আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটদানকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এছাড়াও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সাবেক সচিবসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, কারাবন্দি ভোটাররা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর পক্ষে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156472