প্রযুক্তির যুগে এসেও হারিয়ে যায়নি শৈশবের খেলনাঘর
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলায় প্রযুক্তির যুগে এসেও হারিয়ে যায়নি শৈশবকাল। কোমলমতি শিশুদের লতা-পাতা ও পুরনো শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে খেলনাঘর। এখানে আধুনিক যুগের খেলাধুলায় মেতে সময় কাটাচ্ছে গ্রামের কোমলমতি শিশুরা।
এ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যমুনা ও বাঙালি নদী। এই এলাকার ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষিকাজের সাথে জড়িত। তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার বিষয়ে উদাসীন। কৃষি ও সাংসারিক কাজ-কর্মে ব্যস্ত সময় পার করেন নারী ও পুরুষেরা। সেই সুযোগে তাদের কোমলমতি শিশু-কিশোররা লেখাপড়ার পাশাপাশি আধুনিক যুগে এসেও মোবাইল ফোনের গেমে আসক্ত না হয়ে গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় মেতে থাকতে দেখা গেছে।
শিশু-কিশোররা বাড়ির উঠানে কিংবা বাগান বাড়িতে লতা-পাতা, পুরনো শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে ঘর তৈরি করে সেখানে সংসার পাতানো ও দোকানীসহ নানা ধরনের খেলাধুলায় মেতে থাকে। এসব দোকানে কাঁঠালের পাতাকে টাকা বানিয়ে সেই দোকানের খেলনা সামগ্রী সংগ্রহ করতে ব্যস্ত থাকে শিশুরা। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে এ ধরনের দৃশ্য চোখে পড়ে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে শিশুরা এই ধরনের ঘর বানিয়ে খেলায় মেতে থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরপাড়া গ্রামের নাজমিন আক্তার শাপলা, পাকুল্লা গ্রামের শিউলী বেগম, শালিখা গ্রামের পারুল বেগম বলেন, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা স্কুল শেষে বিকেলে এ ধরনের খেলায় মেতে ওঠে। এতে করে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ঘটে। এমনকি বিকেলে শিশুরা এ ধরনের খেলাধুলায় মেতে থাকায় আনন্দ-উল্লাস করার সুযোগ পায়।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাঈনুল হক বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুরা খেলাধুলায় মেতে থাকায় তাদের মানসিক বিকাশ দ্রুত ঘটে। এমনকি খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের স্মরণ শক্তি অনেক বেড়ে যায়। শিশুরা মোবাইল ফোনে আসক্ত না হয়ে এ ধরনের খেলাধুলায় অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156417