জমি সংক্রান্ত বিরোধে হাতুড়ির আঘাতে নারী নিহত
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নাহিদা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে মহিবুল্লাহ ওস্তা (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদা বেগম পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের শরিফুল ওস্তার স্ত্রী। আহত মহিবুল্লাহ ওস্তা টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনজুরুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী কাদের ওস্তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ছয় মাস আগে উচ্চ আদালত শরিফুল ওস্তার পক্ষে রায় দেন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিপক্ষ জমি দখলে রাখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার সকালে ওই জমিতে বেড়া দেওয়ার কথা ছিল শরিফুল ওস্তার পরিবারের। এ বিষয়ে জানতে পেরে কাদের ওস্তা তার পাঁচ ছেলে—আব্দুল আলি, রাজু, ইয়াসিন, মিজান ও মানিকসহ কয়েকজনকে নিয়ে হাতুড়ি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ অভিযোগ করেন নিহতের দেবরের ছেলে মোহাম্মদ আরমান ওস্তা (২৮)।
মোহাম্মদ আরমান ওস্তা জানান, রাতে কাদের ওস্তার ছেলেরা কয়েকজন সহযোগী নিয়ে মহিবুল্লাহর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে মহিবুল্লাহ ওস্তাকে মারধর করা হলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার মা নাহিদা বেগম। তখন হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে।
পরে স্থানীয়রা মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নাহিদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মহিবুল্লাহ ওস্তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত মহিবুল্লাহ ওস্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাদের ওস্তা আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। বাবা মামলা করতে করতে এক বছর আগে মারা যান। ছয় মাস আগে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। গতকাল টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আজ আমার মাকে হত্যা করেছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মারধর করা হয়েছে।