গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ পেল ‘প্রাণ’

গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ পেল ‘প্রাণ’

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্যের মেলা গালফ ফুড ফেয়ারে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ। বিশেষ করে এবারের মেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাণ এর বিস্কুট, নুডলস, বেভারেজ ও কনফেকশনারী পণ্যের ক্রয়াদেশ বেশি এসেছে। 

মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রাণ প্রায় ৫৫ লাখ ডলার (৫.৫ মিলিয়ন) রপ্তানি আদেশ পেয়েছে। এসব ক্রয়াদেশ এসেছে আমেরিকা, চীন, সৌদি আরব, ইরাক, সিরিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী গালফ ফুড ফেয়ার-২০২৬ শেষ হয়েছে ৩০ জানুয়ারি। এ বছর মেলায় বিশ্বের ১৯৫টি দেশ থেকে আট হাজারের বেশি স্টলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করে। প্রাণ গ্রুপ মেলায় প্রায় ৫০০ ধরনের খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করে।  

এ বিষয়ে প্রাণ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (এক্সপোর্ট) মিজানুর রহমান বলেন, “আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, সেন্ট্রাল ও সাউথ আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি আরো সুসংহত করতে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে আমরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্যের মেলা গালফ ফুড ফেয়ারে প্রতিবছর অংশ নিচ্ছি”।  

তিনি আরও বলেন,“গালফ ফুড ফেয়ার খাদ্যপণ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী। এখানে উৎপাদনকারী ও ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা পায়। এছাড়া বড় বড় কোম্পানি অংশ নেয়ায় তাদের পণ্য সম্পর্কে এবং ভোক্তার আচারণে বিশ্বব্যাপী কি ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে সেটি বোঝা যায়”। 

প্রাণ এর নির্বাহী পরিচাল গোলাম রসুল (এক্সপোর্ট-ইউরোপ ও আমেরিকা) বলেন, “এ বছর ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০০ আমদানিকারক প্রাণ এর স্টল পরিদর্শন করেছেন। আমাদের স্টলে রয়েছে জুস ও বেভারেজ, বিস্কুট ও বেকারি, স্ন্যাকস, নুডলস, স্পাইস, কালিনারি ও ফোজেন ফুডস ক্যাটাগরির পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভারড ড্রিংক, নানান ভেরিয়েন্টের বিস্কুট, জুস, স্পাইস, ওয়েফার, নুডলস ও ফ্রোজেন ফুডস দর্শনার্থীদের বেশি আকৃষ্ট করেছে”। 

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে প্রাণ পণ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি প্রাণ’কে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। গালফ ফুড ফেয়ার এক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবছর আমরা ভালো ক্রয়াদেশ পেয়েছি এবং আশা করছি ক্রেতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবো”।  

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156225