ভোট আসে ভোট দেই কৃষকের কষ্ট থেকেই যায়
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : সকালবেলা নারী শ্রমিক নিয়ে জমি থেকে আলু তুলে মাঠেই বিক্রি করছেন কৃষকরা। পুরো মাঠেই চলছে আগাম জাতের আলু উঠানোর ধুম। এমন চিত্র জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার প্রত্যক মাঠে। এখানকার আলু যাচ্ছে স্থানীয় খুচরা বাজারসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে। এছাড়া বিদেশের মাটিতেও যাচ্ছে আগামজাতের এই এলাকার আলু।
গতকাল শনিবার সকালে জয়পুরহাট-২ আসনের কালাই উপজেলার মুলগ্রাম মাঠে আগাম জাতের আলু তুলতে আসা বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কাজের ফাঁকে হয় ভোটের আলাপ। তাদের একটাই চাওয়া, আসছে নির্বাচনে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা যেন কৃষকদের কথা ভাবেন। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেন। এলাকা ভিত্তিক সরকারি ভাবে হিমাগার নির্মাণ করেন।
৭০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছিলেন উপজেলার আঁওড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাফি (৫২)। গত সপ্তাহে ১ মণ (৪০ কেজি) সাদা জাতের মিউজিকা আলু জমি থেকে বিক্রি করেছেন ৮০০ টাকা। সেই আলু শনিবার জমি থেকে বিক্রি করে পেয়েছে ৩০০ টাকা। এ অবস্থায় ভোটের আলাপ তুলতেই হতাশার সুর কৃষক আব্দুল কাফির কণ্ঠে।
হতাশ কণ্ঠে কৃষক আব্দুল কাফি বলেন, ‘ভোট আসে, ভোট যায়, ‘হামরা নেতাদের কথা মত ভোটও দেই। কিন্তু হামাগেরে মতো কিষানেগেরে তকদির বদলায় না’। হামাগেরে চাওয়া, ভোটটা ভালো হোক, ভোট লিয়ে মারামারি-গন্ডগোল না হোক। ভোটের পরে দ্যাশটা ভালো থাকুক, হামাগেরে মতো চাষাভুষা মানুষের কষ্টের দিন শ্যাষ হোক। সার-কীটনাশকের দাম কমে যাক, ফসলের ভালো দাম থাকুক।
চাল-ডালসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে থাক। সাথে এলাকায় কয়েকটা সরকারি হিমাগার থাক। তাহলেই হামরা খুশি।’ কালাই উপজেলার সড়াইল গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন,‘যেই দলই সরকার গঠন করুক, হামাগেরে ফসলের ঠিকমতো দাম দেক, ভোট হামরা সেই দলকেই দিমু। হামরা মেম্বার-চেয়ারম্যান বা নেতা হতে চাই না।’
জয়পুরহাট সদর উপজেলার কোমরগ্রামের কৃষক এমদাদুল হক বলেন,‘অনেক বছর পর ভোটের মতো ভোট হচ্ছে। ভোটে যে দল জিতবে, সেই দলের কাচে হামরা তেমন কিছুই চাই না। হামরা কষ্ট করে যে আলু-ধান ফলাই সেইটা যেন কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়। এতে হামাগেরে উপকার হবে।’
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156217