বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ঠিকানা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ঠিকানা

প্রত্যেকেই চায় নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে। চোখে থাকে হাজারো স্বপ্ন, মনে থাকে হাজারো আশা। কিন্তু সেই স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় এক কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যার নাম ভর্তিযুদ্ধ। ‎‎এই ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয় অগণিত যোদ্ধা কেউ সুশৃঙ্খল প্রস্তুতির অস্ত্রে সজ্জিত, কেউ আবার নিরস্ত্র পরিশ্রমের শক্তিতে বলীয়ান। প্রচন্ড প্রতিযোগিতার এই লড়াইয়ে যারা টিকে থাকতে পারে, তারাই স্পর্শ করতে পারে স্বপ্নের প্রান্তর। একদল শিক্ষার্থী হাসিমুখে ফিরে যায় বিজয়ের আনন্দ নিয়ে, আর আরেকদল ফিরে যায় বুকভরা আক্ষেপে। 


‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের মিছিল লেগেই থাকে। কেউ নিজের কাক্সিক্ষত ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে হাসে, আবার কেউ হারিয়ে যায় অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাসে। এটাই যেন প্রতি বছরের অবিচল দৃশ্যপট। ‎শুরু হয়েছে এবারের নতুন ভর্তি যুদ্ধ। এখন দেখার বিষয় কে হাসবে বিজয়ের হাসি, কে পাবে তার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। ‎‎ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে হলে প্রথমেই জানতে হবে পরীক্ষার ধরন। বর্তমানে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষা হয়। আগে যেখানে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হতো, এখন সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক পরীক্ষা প্রচলিত হয়েছে। ফলে শুধু সঠিক উত্তর জানা নয়, বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণাও থাকা জরুরি। ‎‎অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট নম্বরের শর্ত রাখে তাই প্রতিটি বিষয়ের জন্য সমানভাবে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। এমন যেন না হয় যে, এক বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেলে কিন্তু অন্য বিষয়ে অকৃতকার্য হও। লিখিত পরীক্ষার পর আসে সাক্ষাৎকার ও বিষয় পছন্দের ধাপ। নিজের পছন্দের বিষয়গুলো ক্রমানুসারে লিখবে সিরিয়াল কতদূর যাবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজের যোগ্যতার প্রতি আস্থা রাখবে। ‎‎হতাশ নয়, নতুন পথে এগিয়ে চলো ‎‎সবাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু হতাশ হওয়া নয়, লড়াই চালিয়ে যাওয়াই প্রকৃত বীরের লক্ষণ। ‎তুমি চাও তো দুইটি পথের যেকোনোটি বেছে নিতে পারো‎ নিজেকে আরেকবার সুযোগ দিয়ে আবারও প্রস্তুতি নাও, ‎অথবা‎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটতে শুরু করো।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী আজ দেশের সেরা পেশায় কাজ করছে শুধু প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য অবশ্যই বিবেচনা করবে। তাছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজেও পড়াশোনার ভালো সুযোগ রয়েছে। ‎যে বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হও না কেন, মনে রাখবে- এটাই তোমার জীবনের নতুন অধ্যায়। ‎বিশ্ববিদ্যালয় কেবল বইপড়ার জায়গা নয়, এটি জ্ঞানচর্চা ও চরিত্র গঠনের এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র। এখানকার সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নাও, নিজের বিষয় ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান বাড়াও। ‎‎অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই বিসিএস বা আইইএলটিএসের প্রস্তুতি শুরু করে, ফলে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের ফলাফল খারাপ হয়ে যায়। মনে রাখবে বিসিএসেও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকে। তাই প্রথমেই নিজের বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করো, তারপর অন্য প্রস্তুতি নাও। ‎‎স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া আর পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করা শুধু সৌভাগ্য নয়, এক নিরলস পরিশ্রমের ফসল। ‎তোমার এই নতুন পথযাত্রা হোক জ্ঞান, সাফল্য ও আলোয় ভরা-‎স্বপ্নবাজদের জন্য শুভকামনা। 

‎লেখক 

বুশরা আজমী

শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, অর্নাস ৩য় বর্ষ, 
রাজশাহী কলেজ 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156188